ফ্লাইদুবাইয়ের ককপিটে হামলা: রহস্যময় কো-পাইলট হামাম আল-হামামির নেপথ্যে কী?

Published: October 3, 2026, 3:01 pm

ইসরাইলগামী ফ্লাইদুবাইয়ের ফ্লাইটে ককপিটে হামলার ঘটনায় সহকারী পাইলটকে ঘিরে রহস্য ক্রমশ ঘনীভূত হচ্ছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সন্দেহভাজন এই ব্যক্তির নাম হামাম আল-হামামি, যিনি ওমানের নাগরিক। গত বুধবার ফ্লাইট এফজেড১০৭৩-এ ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছারের ওপর এই হামলার ঘটনা ঘটে। সংযুক্ত আরব আমিরাত এই ঘটনাটিকে ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। অভিযোগ রয়েছে, হামামি জরুরি ব্যবহারের কুঠার দিয়ে ক্যাপ্টেনকে আঘাত করে বিমানের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন।

ঘটনার নেপথ্যে থাকা উদ্দেশ্য এবং হামামির সঙ্গে কোনো উগ্রপন্থী গোষ্ঠীর সংযোগ আছে কিনা, তা নিয়ে তদন্ত চলছে। এপিকে তথ্য দেওয়া তিনজন কর্মকর্তা, যাদের মধ্যে একজন উপসাগরীয় এবং দুইজন পশ্চিমা কূটনীতিক, নিশ্চিত করেছেন যে হামামিই এই হামলার প্রধান সন্দেহভাজন। সিএনএনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হামামি সংযুক্ত আরব আমিরাতে জন্মগ্রহণ করেন এবং তার মা সিরিয়ার নাগরিক। জীবনের বেশ কিছু বছর তিনি আমিরাতেই অতিবাহিত করেছেন।

হামামির অতীত পেশাজীবনের দিকে তাকালে দেখা যায়, লিংকডইন প্রোফাইল অনুযায়ী তিনি সাত বছর ওমান এয়ারে কাজ করেছেন এবং ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে সেখান থেকে পদত্যাগ করেন। এরপর জুন মাসে তিনি রয়্যাল এয়ার মারকে যোগ দিলেও ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে সেটিও ছেড়ে দেন। যুক্তরাজ্যের বাকিংহামশায়ার নিউ ইউনিভার্সিটি থেকে তিনি বিমান ব্যবস্থাপনা বিষয়ে দূরশিক্ষণ কোর্স সম্পন্ন করেছিলেন, তবে সেখানে কোনো পাইলট প্রশিক্ষণ নেননি। দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল ও সিএনএনের তথ্যমতে, কথিত উগ্রপন্থী মতাদর্শের কারণে ওমানি কর্তৃপক্ষ অতীতে তাকে বিমান চালানো থেকে নিষিদ্ধ করেছিল এবং তাকে পাইলট প্রশিক্ষণ থেকেও সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল।

গত বুধবার সকাল ৭টা ৫ মিনিটে দুবাই থেকে তেল আবিবের উদ্দেশে উড্ডয়ন করে এফজেড১০৭৩। ফ্লাইট ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী, ৩৪ হাজার ফুট উচ্চতায় ওঠার পর বিমানটি হঠাৎ দ্রুত নিচে নামতে শুরু করে। প্রায় দুই মিনিটে ১৭ হাজার ফুটেরও বেশি নিচে নেমে যায় বিমানটি। এ সময় ককপিটে দুই পাইলটের মধ্যে ধস্তাধস্তি চলছিল। অভিযোগ রয়েছে, হামামি ছুরি দিয়ে ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছারকে আক্রমণ করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় ক্যাপ্টেন ককপিটের দরজা খুলে দিলে যাত্রী ও ক্রু সদস্যরা ভেতরে ঢুকে হামামিকে কাবু করেন। এরপর রিজার্ভ পাইলটরা বিমানটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সৌদি আরবের তাবুকে নিরাপদে অবতরণ করান।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের অ্যাটর্নি জেনারেল হামাদ সাইফ আল-শামসি শনিবার জানিয়েছেন, তদন্তকারীরা এই ঘটনাকে একটি ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’ হিসেবেই দেখছেন। বর্তমানে আবুধাবির নেতৃত্বে হামলার উদ্দেশ্য, সম্ভাব্য সহযোগী এবং শারীরিক ও ডিজিটাল প্রমাণগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষ হলে কর্তৃপক্ষ চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করবে বলে জানানো হয়েছে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin