মাঝআকাশে সহ-পাইলটের ভয়াবহ কুঠার হামলার শিকার হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ভারতীয় পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছারকে দেখতে গেছেন দুবাইয়ের ক্রাউন প্রিন্স শেখ হামদান বিন মোহাম্মদ বিন রশিদ আল মাকতুম। হাসপাতালে গিয়ে তিনি এই সাহসী পাইলটের প্রতি বিশেষ সম্মান ও গভীর শ্রদ্ধা জানান।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) একটি পোস্টের মাধ্যমে ক্রাউন প্রিন্স শেখ হামদান তাঁর নিজের ও দেশের নেতৃত্বের পক্ষ থেকে ক্যাপ্টেন স্মিতের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি লেখেন, আমাদের পক্ষ থেকে এবং দেশের নেতৃত্বের পক্ষ থেকে তার প্রতি রয়েছে পূর্ণ কৃতজ্ঞতা ও প্রশংসা। তিনি আরও যোগ করেন, আমরা গর্বিত যে স্মিত আমাদের দলের অংশ, আমাদের দেশের গল্পের অংশ এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত যে মূল্যবোধের প্রতিনিধিত্ব করে, তারও অংশ তিনি। একই সঙ্গে তিনি আরব আমিরাতকে সহমর্মিতা, শান্তি ও জীবনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল একটি দেশ হিসেবে উল্লেখ করেন। এক্সে শেয়ার করা ছবি ও ভিডিওতে ক্রাউন প্রিন্সকে চিকিৎসাধীন স্মিতের পাশে বসে কথা বলতে এবং তাকে উষ্ণভাবে আলিঙ্গন করতে দেখা গেছে।
গত বুধবার দুবাই থেকে তেলআবিবগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি বোয়িং ৭৩৭ বিমানে এই চাঞ্চল্যকর হামলার ঘটনা ঘটে। বিমানটিতে ২৪ জন শিশুসহ ১৭০ জনেরও বেশি যাত্রী ছিলেন। উড়ন্ত অবস্থায় প্রায় ৩৪ হাজার ফুট উচ্চতায় থাকার সময় সহকারী পাইলট হামাম আলহামামি হঠাৎ ককপিটের ‘ক্র্যাশ অ্যাক্স’ বা কুঠার দিয়ে প্রধান পাইলট স্মিতের ওপর চড়াও হন এবং বিমানের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেন।
হামলার মুখে বিমানটি প্রতি মিনিটে প্রায় ২৩ হাজার ফুট গতিতে নিচের দিকে নামতে শুরু করে এবং একপর্যায়ে ১৫ হাজার ৬০০ ফুট উচ্চতায় চলে আসে। মারাত্মক রক্তাক্ত ও গুরুতর আহত অবস্থাতেও ক্যাপ্টেন স্মিত কোনোমতে ককপিটের দরজা খুলে দিতে সক্ষম হন। এরপর কয়েকজন যাত্রী ও ক্রু ককপিটে ঢুকে হামলাকারী সহকারী পাইলটকে কাবু করেন। সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রসিকিউটররা এই ঘটনাকে ‘সন্ত্রাসী হামলা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। ক্যাপ্টেন স্মিতের এই অসীম সাহসিকতার কারণেই বড় ধরনের বিপর্যয় থেকে রক্ষা পায় বিমানটি।





