স্থায়ী ঠিকানা না থাকায় নিয়োগপত্র পাচ্ছেন না মিশন আচার্য

Published: October 2, 2026, 4:33 pm

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করা মিশন আচার্য প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগের জন্য সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন। কিন্তু স্থায়ী কোনো ভিটেবাড়ি না থাকায় তিনি এখন পর্যন্ত নিয়োগপত্র হাতে পাননি। ঝিনাইদহ শহরের কলাবাগান পাড়ার এক ভাড়া বাসায় পরিবারের সঙ্গে বসবাস করেন মিশন আচার্য। প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় সুপারিশপ্রাপ্ত ১৮২ জনের মধ্যে ১৮০ জন নিয়োগপত্র পেলেও, মামলার কারণে একজন এবং স্থায়ী ঠিকানার অভাবে মিশন আচার্যকে নিয়োগপত্র প্রদান করা হয়নি।

মিশন আচার্য জানিয়েছেন, তার জাতীয় পরিচয়পত্র এবং সব শিক্ষাগত সনদে কলাবাগানের ভাড়া বাসার ঠিকানা ব্যবহার করা হয়েছে। চাকরি পাওয়ার পর পুলিশি যাচাই প্রক্রিয়াও এই ঠিকানাতেই সম্পন্ন হয়েছে। তবুও স্থায়ী ঠিকানার জটিলতায় তাকে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে না। তিনি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস ও জেলা প্রশাসকের দপ্তরে যোগাযোগ করলে তাকে জানানো হয় যে, তার স্থায়ী ঠিকানা না থাকায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

মিশন আচার্যের পারিবারিক ইতিহাস সম্পর্কে জানা যায়, তার বাবা নন্দ আচার্য যশোরের বাসিন্দা ছিলেন এবং মা ময়না আচার্যের সঙ্গে বিয়ের পর ঝিনাইদহ শহরেই বসবাস করতেন। মিশন আচার্য যখন মায়ের গর্ভে, তখন তার বাবা সংসার ছেড়ে চলে যান এবং আর কখনো ফিরে আসেননি। এরপর মা ময়না আচার্য অন্যের বাড়িতে গৃহপরিচারিকার কাজ করে দুই ছেলেকে বড় করেছেন। বড় ভাই শৈলেন আচার্য সংসারের চাপে বেশি পড়াশোনা করতে না পারলেও মিশন আচার্য কঠোর পরিশ্রম করে পড়াশোনা চালিয়ে গেছেন। তিনি এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ এবং এইচএসসিতে জিপিএ-৪.৮৩ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়ে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিষয়ে পড়াশোনা শেষ করেন।

মিশন আচার্যের মায়ের বাবার বাড়ি সদর উপজেলার পণ্ডিতপুর গ্রামে। সেখানে তাদের কোনো ভিটেবাড়ি না থাকায় ২০২২ সালে তার মামা বিষ্ণুপদ বিশ্বাস তাকে দুই শতক জমি লিখে দিয়েছেন। তবে সেখানে বাড়ি করার মতো সামর্থ্য তাদের এখনো হয়নি।

এ বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আমজাদ হোসেন জানিয়েছেন, মিশন আচার্য অভিযোগ নিয়ে আসার পর তিনি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরকে বিষয়টি অবহিত করেছেন এবং দ্রুত সমাধানের আশা করছেন। জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেনও বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেছেন, মিশন আচার্যের স্থায়ী ঠিকানার বিষয়টি নিয়ে একটি জটিলতা দেখা দিয়েছে। তার আবেদনটি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছে এবং দ্রুত এর সমাধান হবে বলে তিনি আশাবাদী।

এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৪ দশমিক ৮৩ পেয়ে পাস করার পর ভর্তি হই ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Amader Shomoy