রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে পাঁচ দফা প্রস্তাব তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে আয়োজিত রোহিঙ্গা সংকট বিষয়ক এক উচ্চপর্যায়ের সাইড ইভেন্টে তিনি এই প্রস্তাবনা পেশ করেন। বাংলাদেশ ও গাম্বিয়ার যৌথ আয়োজনে এই ইভেন্টটি অনুষ্ঠিত হয়।
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে স্পষ্ট করে বলেন, মানবিক সহায়তার উদারতা কখনোই রাজনৈতিক নিষ্ক্রিয়তার অজুহাত হতে পারে না। তিনি উল্লেখ করেন, দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে মিয়ানমারে রোহিঙ্গারা বৈষম্য ও নিপীড়নের শিকার হয়ে আসছে। ২০১৭ সালে মিয়ানমারে সহিংসতার পর পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটেছে।
বাংলাদেশের ওপর দীর্ঘদিনের এই বিশাল বোঝার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, নয় বছরেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশ ১২ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে মানবিক দায়িত্ব পালন করছে। সীমান্ত খুলে দিয়ে তাদের খাদ্য, স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষাদানের ব্যবস্থা করা হলেও, দীর্ঘ সময় বসবাসের জন্য শিবিরগুলো কোনো আদর্শ জায়গা নয়। তাই অনির্দিষ্টকাল ধরে এই দায়িত্ব কেবল বাংলাদেশের ওপর চাপিয়ে রাখা প্রত্যাশিত নয়।
মিয়ানমারের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই সংকটের উৎপত্তি মিয়ানমারে, তাই এর সমাধানও সেখানেই নিহিত। রাখাইন রাজ্যের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি এখনো উদ্বেগজনক এবং মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী ও আরাকান আর্মি—উভয়ের বিরুদ্ধেই গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে। ফলে নিরাপদ প্রত্যাবাসনের পরিবেশ এখনো তৈরি হয়নি। তিনি অতীতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং বেগম খালেদা জিয়ার শাসনামলে সফলভাবে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করিয়ে দেন।
সংকট নিরসনে প্রধানমন্ত্রী যে পাঁচটি জরুরি প্রস্তাব দিয়েছেন, তার মধ্যে অন্যতম হলো মিয়ানমারের বেসামরিক জনগণ ও রোহিঙ্গাদের ওপর সহিংসতা বন্ধ করা। তিনি তাদের নিজ ভূমিতে মৌলিক অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছেন, যাতে তারা ফিরে যাওয়ার বিষয়ে আস্থা অর্জন করতে পারে।





