বোয়িংয়ের সঙ্গে ১১টি নতুন বিমান কেনার চুক্তি করেছে বাংলাদেশ

Published: September 24, 2026, 2:47 am

দেশের বিমান পরিবহন খাতকে আরও শক্তিশালী ও সম্প্রসারিত করার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের সঙ্গে ১১টি নতুন বিমান কেনার চুক্তি স্বাক্ষর করেছে বাংলাদেশ। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নিউইয়র্কের গ্র্যান্ড হায়াত হোটেলের লবিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে মার্কিন সরকারের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। এদের মধ্যে রয়েছেন মার্কিন বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিক, উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টোফার লান্ডাউ, আন্ডার সেক্রেটারি অব কমার্স উইলিয়াম কিমিট এবং দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুর। মাহদী আমিন জানান, বোয়িংয়ের সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে এবং চাহিদার ভিত্তিতেই নতুন উড়োজাহাজ কেনার এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে প্রয়োজন অনুযায়ী এয়ারবাসের সঙ্গেও আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের নতুন রুট চালুর পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই এই উড়োজাহাজগুলো কেনা হচ্ছে। অনুষ্ঠান শেষে বোয়িংয়ের প্রতিনিধিদল প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ সফরের বিভিন্ন কর্মসূচির বিস্তারিত তুলে ধরেন মাহদী আমিন। তিনি জানান, সফরের দ্বিতীয় দিনে প্রধানমন্ত্রী স্বাস্থ্য, কৃষি, রোহিঙ্গা সংকট, জলবায়ু পরিবর্তন এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাসহ বিভিন্ন বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অংশ নিয়েছেন। গেটস ফাউন্ডেশনের সঙ্গে আলোচনায় বাংলাদেশে টিকা উৎপাদনের সক্ষমতা বৃদ্ধি, কৃষকদের প্রযুক্তির ব্যবহার এবং কৃষি উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে মাহদী আমিন বলেন, বাংলাদেশ ও গাম্বিয়ার যৌথ উদ্যোগে এই সংকট নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠান হয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া ১২ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গার নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা অপরিহার্য। তিনি মিয়ানমারে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং নিপীড়নের জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এছাড়া চীনের সঙ্গে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে উচ্চপর্যায়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে বলে তিনি জানান।

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার বিষয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ শান্তিপূর্ণ সমাধানের পক্ষে এবং প্রয়োজনে নিরপেক্ষ অবস্থানে থেকে সংলাপের সুযোগ তৈরিতে ভূমিকা রাখতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তন প্রসঙ্গে তিনি জানান, জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য অর্থায়ন নিশ্চিত করার পাশাপাশি কার্বন নিঃসরণ কমাতে বৈদ্যুতিক যানবাহন ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহারের পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে। মাহদী আমিন আরও জানান, জাতিসংঘ সফরের অংশ হিসেবে ক্রোয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী এবং ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গেও প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবীর, শামা ওবায়েদ এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। আগামীকালের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী বাংলায় বক্তব্য দেবেন বলেও জানান তিনি।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo