রাজধানীর গুলশানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিলে অংশ নেওয়ার অভিযোগে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া ১৫ নেতাকর্মীকে তিন দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। বুধবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা এই আদেশ দেন। রিমান্ডে যাওয়া আসামিরা হলেন নিরব খান, সাইফুল ইসলাম, জুয়েল শিকদার, সাহেদ, শান্ত শেখ, হারুন ভাইজভান্ডারী, খালেদ মাহমুদ ফয়সাল, সফিকুর রহমান, বিল্লাল গাজী, ইসমাঈল সিরাজী, আরিফুর রহমান দিপু, ইদ্রিসুল আলম, জয়নাল আবেদীন মামুন, জয়ন্ত কুমার বাড়ৈ এবং মোজাম্মেল হক। গত ১৭ সেপ্টেম্বর গুলশান থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রুহুল আমিন তাদের সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেছিলেন।
শুনানিকালে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিল করে জামিন আবেদন করেন, অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউটর মুহাম্মদ শামছুদ্দোহা সুমন ও হারুন-অর-রশীদ সর্বোচ্চ রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। শুনানির সময় আদালত তদন্ত কর্মকর্তা এসআই রুহুল আমিনকে ভর্ৎসনা করেন। বিচারক আরিফুর রহমান নামের এক আসামির পরিচয়ে ভুলের বিষয়টি ধরে বলেন, 'কিসের তদন্ত কর্মকর্তা আপনি? ছাত্রলীগকে ছাত্রদল লিখেন। একটা ফরওয়ার্ডিং লিখছেন, তাও আবার গুলশান থানায় আছেন। সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলা, যা তা লিখে পাঠিয়ে দেন।'
আসামি সাইফুল ইসলামের আইনজীবী আদালতকে জানান, তিনি তিশার বাবা, যিনি আলোচিত খন্দকার মুশতাক আহমেদের স্ত্রী। আদালত সাইফুল ইসলামকে গ্রেপ্তারের স্থান সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি উত্তর মুগদা এলাকার কথা জানান। একই বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তা মুগদা থেকে গ্রেপ্তারের কথা বললেও গ্রেপ্তারের নির্দিষ্ট তারিখ বলতে ব্যর্থ হন। বিচারক এ সময় তদন্ত কর্মকর্তার কর্মকাণ্ডে অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, 'কাজের নামে কাজ না করে অকাজ করে বেড়াচ্ছেন। হাজার টাকা দিলে মিছিলে মানুষ পাওয়া যায়। গোড়ায় যান না কেন?'
উল্লেখ্য, গত ১১ সেপ্টেম্বর দুপুরে গুলশান-১ এলাকায় কয়েকশ মানুষের অংশগ্রহণে মিছিলটি অনুষ্ঠিত হয়। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গেলে মিছিলকারীরা দুটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায় এবং পুলিশ দুই রাউন্ড রাবার বুলেট ছোড়ে। এ ঘটনায় গুলশান থানার এসআই মো. মাহবুব হোসাইন বাদী হয়ে ১১৮ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ৮০ থেকে ১০০ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। এ পর্যন্ত এই মামলায় মোট ৬৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।





