সর্বজনীন পেনশনে শরিয়াহ পদ্ধতি চালুর উদ্যোগ, বিনিয়োগ হবে কোথায়

Published: September 24, 2026, 3:57 am

বাংলাদেশের সর্বজনীন পেনশন কর্মসূচিতে শরিয়াহভিত্তিক পদ্ধতি চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রকাশ : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯: ৩৩। দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক নিরাপত্তার আওতায় আরও বেশি মানুষকে নিয়ে আসার লক্ষ্যে প্রচলিত সুদভিত্তিক কাঠামোর পাশাপাশি এই নতুন পদ্ধতি যুক্ত করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। গত ১৭ সেপ্টেম্বর সচিবালয়ে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের পরিচালনা পর্ষদের চতুর্থ বৈঠকে এই প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। বর্তমানে এই পদ্ধতির আইনগত ভিত্তি তৈরির জন্য খসড়া প্রণয়ন ও জাতীয় সংসদে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।

জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের সদস্য (প্রশাসন ও অর্থ) শেখ কামরুল হাসান জানান, এটি বিদ্যমান চারটি স্কিমের—প্রবাস, প্রগতি, সুরক্ষা ও সমতা—আলাদা কোনো পঞ্চম স্কিম নয়, বরং এগুলোরই ইসলামিক সংস্করণ। গ্রাহকদের সামনে দুটি বিকল্প থাকবে: প্রচলিত মুনাফা পদ্ধতি অথবা শরিয়াহভিত্তিক পদ্ধতি। যারা সুদ গ্রহণ করতে আগ্রহী নন, তারা শরিয়াহ পদ্ধতি বেছে নিতে পারবেন। এই কাঠামোর কারিগরি বিষয়, বিনিয়োগ ব্যবস্থা এবং পরিচালন পদ্ধতি নির্ধারণে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও স্থানীয় পরামর্শকেরা কাজ করছেন। এছাড়া শরিয়াহ বোর্ড গঠন এবং সুকুক বন্ডসহ হালাল খাতে বিনিয়োগের বিষয়টিও পর্যালোচনার অধীনে রয়েছে।

২০২৩ সালে চালু হওয়া সর্বজনীন পেনশনের চারটি স্কিমে এখন পর্যন্ত প্রায় ৩ লাখ ৮০ হাজার গ্রাহক নিবন্ধিত হয়েছেন। এর মধ্যে সমতা স্কিমে সর্বোচ্চ ২ লাখ ৮৭ হাজার ২২৪ জন নিবন্ধন করেছেন। বর্তমানে জমা হওয়া প্রায় ৩২০ কোটি ৩০ লাখ টাকা সরকারি ট্রেজারি বন্ডে বিনিয়োগ করা আছে। তবে অর্থনীতিবিদ ও আর্থিক খাতের সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, শরিয়াহভিত্তিক পদ্ধতির সাফল্য নির্ভর করবে গ্রাহকের আস্থা অর্জনের ওপর। তাদের মতে, সুকুক বন্ড, ইসলামিক ইক্যুইটি এবং মুদারাবা বা মুশারাকা মডেলে বিনিয়োগের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) অধ্যাপক মো. আহসান হাবীব বলেন, গ্রাহকের আস্থা অর্জনে শক্তিশালী ও স্বাধীন শরিয়াহ বোর্ড এবং স্বচ্ছ প্রতিবেদন জরুরি। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ইসলামী ব্যাংকগুলোর সাম্প্রতিক সংকটের কারণ ব্যাংকিং মডেল নয়, বরং রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ। তিনি মনে করেন, পণ্যের বৈচিত্র্য না আনলে সব মানুষকে এই কর্মসূচির আওতায় আনা কঠিন হবে।

পেনশন কর্তৃপক্ষ গ্রাহকদের আগ্রহ বাড়াতে আরও কিছু উদ্যোগ নিয়েছে। এর মধ্যে পেনশনারের মৃত্যুতে সুবিধাভোগীর বয়সসীমা ৭৫ থেকে বাড়িয়ে ৮০ বছর করা হয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বিনিয়োগের বিপরীতে মুনাফার হার ১১ দশমিক ৬৮ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১১ দশমিক ৭২ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া প্রবাসীদের জন্য বিমানবন্দরে নিবন্ধনের সুযোগ, ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার বা ব্যাংকের মাধ্যমে নিবন্ধনে প্রণোদনা ১৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৫ টাকা করা এবং পেনশন পাওয়ার বয়স ৬০ থেকে কমিয়ে ৫৫ বছর করার বিষয়টিও পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh