জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে অর্থনীতিতে চাপ বাড়ে: বাণিজ্যমন্ত্রী

Published: September 21, 2026, 7:58 pm

আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি পণ্যের দাম বৃদ্ধি পেলে দেশের অর্থনীতিকেও সেই বাড়তি চাপের সম্মুখীন হতে হয় বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। দেশে চার ধরনের জ্বালানি তেলের দাম এক লাফে লিটার প্রতি ২০ টাকা বাড়ানোর পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে আয়োজিত বাজার পরিস্থিতি বিষয়ক পর্যালোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রী জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়লে সরকার ভোক্তাদের ওপর সবটুকু চাপ একবারে না চাপিয়ে কিছুটা অংশ বহন করার চেষ্টা করে। তবে শেষ পর্যন্ত এই দায় রাষ্ট্রীয় অর্থব্যবস্থার ওপরই পড়ে। তাই জ্বালানির সাশ্রয়ী ও দক্ষ ব্যবহারের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

বাজার ও ব্যবসা-বাণিজ্য স্বাভাবিক রাখার বিষয়ে সরকার প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা প্রদানের বিষয়টি বিবেচনা করবে বলে মন্ত্রী জানান। তিনি বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখতে বিদ্যমান কর কাঠামোর বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করা হবে। পাশাপাশি দেশে উৎপাদিত পণ্য এবং যেসব পণ্যের এলসি ইতোমধ্যে খোলা হয়েছে বা জাহাজীকরণ পর্যায়ে রয়েছে, সেগুলোর তথ্য নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হবে।

উল্লেখ্য, রোববার রাত ১২টা থেকে সরকার ডিজেল, কেরোসিন, অকটেন ও পেট্রোলের দাম লিটার প্রতি ২০ টাকা বাড়িয়েছে। নতুন দাম অনুযায়ী ডিজেল ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৫৫ টাকা, অকটেন ১৬৫ টাকা এবং পেট্রোল ১৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। গত ছয় মাসে এটি জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির তৃতীয় ঘটনা।

বাজারে পণ্যের সরবরাহ ও মূল্য স্থিতিশীল রাখতে নজরদারি জোরদার করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, অস্বাভাবিক পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে দেওয়া হবে না এবং অযৌক্তিকভাবে পণ্যের দাম বাড়ানোর চেষ্টা করলে সরকার ব্যবস্থা নেবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, গ্যাস সরবরাহে বিঘ্ন এবং প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে শিল্প উৎপাদন ও পণ্য পরিবহনে কিছুটা প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছে।

সভায় বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের পক্ষ থেকে নিত্যপণ্যের চাহিদা ও সরবরাহের চিত্র তুলে ধরা হয়, যেখানে গত বছরের তুলনায় আমদানি ও এলসি খোলার পরিস্থিতি ইতিবাচক বলে জানানো হয়েছে। সভায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খান, বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের চেয়ারম্যান নাসির উদ দৌলা, জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. জহিরুল ইসলাম এবং ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Alokito Bangladesh