জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস সতর্ক করে বলেছেন যে, বিশ্বজুড়ে চলমান যুদ্ধ ও সংঘাতের মাত্রা ক্রমাগত জটিল হচ্ছে। একই সঙ্গে ভূরাজনৈতিক বিভাজনের কারণে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতির ফলে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ও অসহায় মানুষগুলো এক অত্যন্ত সংকটজনক অবস্থার মুখোমুখি হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সোমবার আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে গুতেরেস এসব কথা বলেন। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে মহাসচিব হিসেবে নিজের শেষ ভাষণ দেওয়ার ঠিক আগের দিন তিনি এই সাক্ষাৎকারটি দেন। এতে তিনি বিশ্বের বড় সামরিক সংঘাতগুলো এবং বর্তমান বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় জাতিসংঘের কার্যকারিতা নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেন।
গুতেরেস বলেন, বর্তমান বিশ্ব এমন এক দায়মুক্তির পরিবেশে আচ্ছন্ন, যেখানে মাঝারি শক্তির দেশগুলো মনে করছে যে তারা যেকোনো কর্মকাণ্ড পরিচালনা করলেও তাদের কোনো পরিণতি ভোগ করতে হবে না। তিনি রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধের প্রভাবের দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, এর ফলে সাধারণ মানুষের জীবন বিপর্যস্ত হচ্ছে। বিশেষ করে খাদ্য সরবরাহ, জ্বালানির উচ্চমূল্য এবং বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি সাধারণ মানুষের ওপর মারাত্মক চাপ তৈরি করেছে।
উন্নত দেশগুলো সুদের হার ও জ্বালানি ব্যয় বাড়লেও তা সামাল দিতে সক্ষম হলেও, উন্নয়নশীল বিশ্বের মানুষ খাদ্য ও জ্বালানির ক্রমবর্ধমান ব্যয় এবং সারের সংকটের কারণে চরম সংকটে পড়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
২০১৭ সালের ১ জানুয়ারি জাতিসংঘের মহাসচিবের দায়িত্ব গ্রহণকারী পর্তুগালের সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী ও শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনারের বর্তমান মেয়াদ ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর শেষ হবে। তার উত্তরসূরি এখনো নির্ধারিত না হলেও, গুতেরেস মনে করেন যে জাতিসংঘকে প্রাসঙ্গিক রাখতে বড় ধরনের সংস্কার প্রয়োজন। বিশেষ করে নিরাপত্তা পরিষদের কাঠামোগত সংস্কারের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, এই পরিষদ এখনো মূলত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার বিশ্বব্যবস্থাকেই প্রতিনিধিত্ব করছে।
মহাসচিব পদের উত্তরসূরি হওয়ার দৌড়ে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসি, সেনেগালের সাবেক প্রেসিডেন্ট ম্যাকি সাল এবং ইকুয়েডরের কূটনীতিক মারিয়া ফার্নান্দা এস্পিনোসার নাম শোনা যাচ্ছে। জাতিসংঘ মহাসচিব নিয়োগের প্রক্রিয়ায় নিরাপত্তা পরিষদের ১৫ সদস্যের মধ্যে অন্তত ৯ জনের সমর্থন এবং স্থায়ী পাঁচ সদস্যের (চীন, ফ্রান্স, রাশিয়া, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র) ভেটোহীন সম্মতির প্রয়োজন হয়। এরপর সাধারণ পরিষদের ভোটের মাধ্যমে নিয়োগ চূড়ান্ত করা হয়।
প্রকাশ : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০০: ৫৮আপডেট : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১: ০০





