জাতিসংঘ অধিবেশন ঘিরে নিউ ইয়র্কে মুখোমুখি বিএনপি ও আওয়ামী লীগ

Published: September 19, 2026, 11:42 am

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে আগামী সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ২৪ সেপ্টেম্বর সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে তাঁর ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে। তবে সরকারপ্রধানের এই সফরকে কেন্দ্র করে দেশের রাজনৈতিক বৈরিতা ও উত্তাপ এবারও ছড়িয়ে পড়েছে সুদূর নিউ ইয়র্কের রাজপথে। ঐতিহ্যগত ধারাবাহিকতায় এবারও মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি ও যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ। একপক্ষ যখন সরকারপ্রধানকে স্বাগত জানাতে নিজেদের শক্তি প্রদর্শন করছে, অন্যপক্ষ তখন সর্বাত্মক বিরোধিতার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই সফরকে ঘিরে নিউ ইয়র্কের বাঙালি অধ্যুষিত জ্যাকসন হাইটসসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সাধারণ প্রবাসীরা ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। জ্যাকসন হাইটসে দাঁড়িয়ে সিলেটের বাসিন্দা এক ক্ষুব্ধ প্রবাসী আক্ষেপ করে বলেন, ব্যানার-পোস্টারের অবস্থা দেখে মনে হয় আমেরিকার মাটিতে এসেও আমরা দেশের রাজনীতি ভুলতে পারছি না। প্রতি বছর সেপ্টেম্বর এলেই সরকারপ্রধান জাতিসংঘে আসেন আর প্রবাসীরা মারামারি ও গালাগালিতে জড়িয়ে পড়েন। শুধু স্লোগানটাই পাল্টে যায়; আগে যে স্বাগত জানাতো সে এখন প্রতিরোধ করতে চায়, আর যে আগে প্রতিরোধ করতো সে এখন স্বাগত জানায়।

যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাবেক সভাপতি আব্দুল লতিফ সম্রাট জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে এবং তাঁর সফর সফল করতে দলের নেতাকর্মীরা অত্যন্ত উচ্ছ্বসিত। ২১ সেপ্টেম্বর বিমানবন্দরে অভ্যর্থনা জানানো এবং ২৪ সেপ্টেম্বর ভাষণ দেওয়ার দিনে জাতিসংঘের সামনে শান্তি সমাবেশের প্রস্তুতি নিচ্ছেন তাঁরা। তবে ব্যয়সংকোচন নীতির কারণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কোনো নাগরিক কিংবা দলীয় সংবর্ধনায় অংশ নেবেন না বলে তিনি জানান।

এদিকে, গত বছর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার সফরসঙ্গীদের নিয়ে বিমানবন্দরে একটি বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। এবার যাতে প্রতিপক্ষ কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে, সেজন্য স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে দলীয়ভাবে সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান জিল্লু।

অন্যদিকে, আওয়ামী লীগও তাদের অবস্থানে অনড়। ২১ সেপ্টেম্বর বিমানবন্দরে এবং ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন ও অবস্থান নেওয়ার হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে দলটি। ইতিমধ্যে তারা সংবাদ সম্মেলন করে প্রধানমন্ত্রীর আগমনের প্রতিবাদে সভা-সমাবেশ করেছে।

জাতিসংঘের অধিবেশন উপলক্ষে প্রতি বছরই বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধানরা নিউ ইয়র্কে আসেন। তবে বাংলাদেশিদের এই পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও হাতাহাতির ঘটনা বিশ্বমঞ্চে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করছে বলে মনে করেন সাধারণ প্রবাসীরা। সিনিয়র সাংবাদিক ও 'দেশ' পত্রিকার সম্পাদক মিজানুর রহমান এ বিষয়ে বলেন, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে সরকারপ্রধানের যোগ দেওয়া একটি স্বাভাবিক ঘটনা। কিন্তু আমরা এই স্বাভাবিক ঘটনাকে অস্বাভাবিক বানিয়ে ফেলি। কেউ পক্ষে আবার কেউ বিপক্ষে দাঁড়িয়ে হাতাহাতি ও মারামারিতে জড়িয়ে পড়ি। এতে একদিকে যেমন দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে, তেমনি নতুন প্রজন্মের কাছে আমাদের রাজনীতি নিয়ে একটি নেতিবাচক ধারণা তৈরি হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বিদেশের মাটিতে দেশের রাজনৈতিক বৈরিতা প্রদর্শন না করে উভয় পক্ষেরই অত্যন্ত সংযত ও দায়িত্বশীল আচরণ করা উচিত। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এবারের সফরটি সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘে ভাষণ দেওয়ার পরদিন ২৫ সেপ্টেম্বর রাতেই নিউ ইয়র্ক থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin