হরমুজ প্রণালি খোলার বিষয়ে ইরানের প্রস্তাব ফেরালেন ট্রাম্প

Published: September 26, 2026, 5:15 am

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত বন্ধ এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করার বিষয়ে ইরানের দেওয়া একটি শান্তি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন বলে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। যদিও বার্তা সংস্থা রয়টার্স তাৎক্ষণিকভাবে এই প্রতিবেদনের সত্যতা নিশ্চিত করতে পারেনি। অন্যদিকে তেহরান এই শান্তি প্রস্তাবের বিষয়ে ওয়াশিংটনের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে।

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিয়ে নিউইয়র্কে এই কূটনৈতিক উদ্যোগের কথা জানায় ইরান। কাতারের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পাঠানো এই প্রস্তাবে বলা হয়েছে, এটি গৃহীত হলে সাত দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া এবং পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা সম্ভব হবে। শুক্রবার জাতিসংঘে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেন, চুক্তি সম্পন্ন করতে যুক্তরাষ্ট্র আন্তরিক হলে সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে। এই চুক্তির পর যুদ্ধরত পক্ষগুলো পারস্পরিকভাবে সম্মত অন্যান্য বিষয়েও বৃহত্তর আলোচনায় বসতে পারবে।

ইরানের এই শান্তি প্রস্তাবে লেবাননসহ সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধের কথা বলা হয়েছে। এর বিনিময়ে তেহরান দাবি করেছে, যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানি বন্দরগুলোর ওপর থেকে অবরোধ তুলে নিতে হবে, দেশটির জব্দ করা অর্থ ছাড় করতে হবে এবং তেলের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে হবে। তবে ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন এই শান্তি প্রস্তাব গ্রহণ করলেও নিজেদের পারমাণবিক কর্মসূচিতে কোনো ছাড় দেবে না তেহরান। ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বা উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দেশের বাইরে পাঠানোর অধিকার থেকে ইরান কোনোভাবেই সরে আসবে না।

অন্যদিকে, ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ইরান তার দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো রক্ষা করবে কি না, তা নিয়ে ট্রাম্প ব্যক্তিগতভাবে সন্দিহান। তিনি তার সহযোগীদের কাছে ইরানে পুনরায় বিমান হামলা চালানোর সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেছেন। অথচ এর আগে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে চলা আলোচনাকে এক মার্কিন কর্মকর্তা ‘ইতিবাচক ও গঠনমূলক’ হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন। উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে এই যুদ্ধের সূচনা হয়। কয়েক দফা বিরতি ও হামলার মধ্য দিয়ে চলা এই সংঘাতে হাজার হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছে এবং ইরানের অর্থনীতি ও সামরিক সক্ষমতা ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে।

এই সংঘাতের প্রভাব পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। ওমানের সঙ্গে যৌথভাবে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণে থাকা ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। পাশাপাশি ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা অব্যাহত রেখেছে। অন্যদিকে, ইরাকের ইরানপন্থী মিলিশিয়াদের বিরুদ্ধে সৌদি আরবের তেল সরবরাহ পাইপলাইনে হামলার অভিযোগ রয়েছে এবং লেবাননে হিজবুল্লাহ ইসরায়েলি বাহিনীর সঙ্গে সংঘাতে লিপ্ত রয়েছে。

এরই মধ্যে হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ নৌ চলাচল নিশ্চিত করতে ওমানের সঙ্গে হওয়া সমঝোতার বিষয়টি সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহানকে অবহিত করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি। তবে হুতিদের হামলা এখনো অব্যাহত রয়েছে। শনিবার রিয়াদের দিকে ধেয়ে আসা দুটি ড্রোন এবং খামিস মুশাইতের দিকে ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার কথা জানিয়েছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। জুলাই মাসে সৌদির বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ ঘোষণার পর থেকেই হুতিরা দেশটির শহর ও জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে, যা বৈশ্বিক তেল সরবরাহে নতুন সংকট তৈরি করেছে। এমন পরিস্থিতিতে সৌদির প্রতিরক্ষা জোরদারে সহযোগিতা বাড়াচ্ছে তুরস্ক ও পাকিস্তান। শুক্রবার রিয়াদে দেশ দুটির প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা সৌদি কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিরাপত্তা পরিস্থিতি, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় ও সামরিক সমন্বয় নিয়ে বৈঠক করেছেন।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Amader Shomoy