পর্যটন খাতকে আন্তর্জাতিক মানে রূপ দিতে অংশীদারত্বে জোর পর্যটনমন্ত্রীর

Published: September 17, 2026, 1:21 pm

বাংলাদেশের পর্যটন খাতকে একটি পরিকল্পিত, টেকসই এবং আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিযোগিতামূলক শিল্প হিসেবে গড়ে তুলতে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি) ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। বৃহস্পতিবার ঢাকায় শুরু হওয়া তিন দিনব্যাপী ১৩তম এশিয়ান ট্যুরিজম ফেয়ারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম. রাশিদুজ্জামান মিল্লাত এই কথা জানান।

মন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে দেশের প্রতিটি অঞ্চলের নিজস্ব পর্যটন সম্ভাবনাকে পরিকল্পিত উপায়ে কাজে লাগানোর তাগিদ দেন। তিনি বলেন, নদী, পাহাড়, সমুদ্র ও বনাঞ্চলসহ বাংলাদেশে বৈচিত্র্যময় পর্যটন সম্পদ রয়েছে। বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন, দীর্ঘতম প্রাকৃতিক সমুদ্রসৈকত কক্সবাজার ও কুয়াকাটার পাশাপাশি সিলেটের চা-বাগান, হাওর-জলাভূমি এবং ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় ঐতিহ্য এ দেশের পর্যটনের প্রধান আকর্ষণ।

পর্যটনের সম্ভাবনাকে কয়েকটি সুনির্দিষ্ট গন্তব্যে সীমাবদ্ধ না রেখে দেশজুড়ে ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানান মন্ত্রী। তিনি উল্লেখ করেন, বিভিন্ন ধরনের পর্যটন আকর্ষণকে সমন্বিত করে একটি মহাপরিকল্পনা বা মাস্টারপ্ল্যান তৈরির কাজ বর্তমানে চলমান রয়েছে। এই লক্ষ্য অর্জনে বেসরকারি বিনিয়োগের পাশাপাশি সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

এম. রাশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, পর্যটন খাতের উন্নয়ন কেবল প্রশাসনিক কোনো অগ্রাধিকার নয়, এটি বর্তমান সরকারের একটি রাজনৈতিক অঙ্গীকার। দেশের অর্থনৈতিক বহুমুখীকরণ, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং ভারসাম্যপূর্ণ regional বা আঞ্চলিক উন্নয়নের বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই খাতকে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

কক্সবাজারকে একটি আঞ্চলিক পর্যটন হাব হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, কক্সবাজারের দীর্ঘ সমুদ্রসৈকতকে কেন্দ্র করে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। নবনির্মিত কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অন্যতম মূল লক্ষ্যই হলো বিদেশি পর্যটকদের আকৃষ্ট করা। এছাড়া সুন্দরবনকে ঘিরে পিপিপি মডেলে বড় ধরনের উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণের সুযোগ রয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

পর্যটন খাতের উন্নয়নে স্থানীয় জনগোষ্ঠী ও বেসরকারি খাতকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা ছাড়া এ খাতকে আন্তর্জাতিক বাজারে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। বর্তমান অবদানকে আরও বাড়াতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে নতুন, উদ্ভাবনী ও সাশ্রয়ী ধারণা নিয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পর্যটন শিল্পের অংশীজনদের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনার, উন্নয়ন সহযোগী ও বিনিয়োগকারীরা উপস্থিত ছিলেন। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই মেলা আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। মেলায় বাংলাদেশসহ ১০টি দেশের ২০০টিরও বেশি প্রতিষ্ঠান প্রায় ৩০০টি বুথ নিয়ে অংশ নিচ্ছে।

উল্লেখ্য, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ (17 September 2026) তারিখ ১৮:৪২ (18:42) মিনিটে এই প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়েছে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh