প্রকল্পে অহেতুক বিলম্ব নয়, সময়সীমা মানার কঠোর নির্দেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

Published: September 17, 2026, 1:33 pm

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চলমান ও ‘সবুজ পাতায়’ অন্তর্ভুক্ত অননুমোদিত প্রকল্পগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের পাশাপাশি কাজের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত চলতি অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) এক পর্যালোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এই নির্দেশনা দেন।

সভায় প্রকল্প বাস্তবায়নে গতি বাড়ানো এবং নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করার ওপর বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপপ্রধান তথ্য কর্মকর্তা ফয়সল হাসান জানান, সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন যে প্রকল্প বাস্তবায়নে অহেতুক বিলম্ব কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। কারণ সময় বাড়লে সরাসরি প্রকল্পের ব্যয়ও বেড়ে যায়। এ কারণে প্রতিটি প্রকল্পে সময়ভিত্তিক লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে নির্দিষ্ট মেয়াদের মধ্যে কাজ শেষ করতে সংশ্লিষ্টদের কঠোর নির্দেশ দেন তিনি। একই সঙ্গে নতুন ও সংশোধিত প্রকল্পের ‘ডিপিপি’ দ্রুত প্রণয়নেরও তাগিদ দেন মন্ত্রী।

কারাগারসংক্রান্ত প্রকল্পগুলোর ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ও যাতায়াতের বিধিনিষেধের কারণে কাজের গতি কিছুটা ব্যাহত হওয়াকে যৌক্তিক বলে মনে করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তবে সাধারণ সিভিল ওয়ার্ক ও অবকাঠামোগত প্রকল্পে কোনো ধরনের বিলম্ব মেনে নেওয়া হবে না বলে সতর্ক করেন তিনি। স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের (এসআরবি) সদর দপ্তর নির্মাণসহ সব সাধারণ অবকাঠামোগত কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করার নির্দেশ দেন তিনি।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের কঠোর প্রয়োগ ও কার্যকর পদক্ষেপের ওপর গুরুত্ব দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রতি জেলায় ডগ স্কোয়াড গঠন, ডোপ টেস্টের সুবিধা বাড়ানো, হাজতখানা ও মালখানা সংস্কার এবং জেলা পর্যায়ে আধুনিক ফরেনসিক ল্যাব ও ডিজিটাল ফরেনসিক অবকাঠামো স্থাপনের প্রকল্পগুলো নির্দিষ্ট সময়সূচি অনুযায়ী দ্রুত বাস্তবায়নের নির্দেশ দেন। এছাড়া দেশের গ্রামীণ এলাকার থানাগুলোকে মানসম্মত মডেল থানায় রূপান্তরের জন্য একটি নির্দিষ্ট ‘প্রোটোটাইপ ডিজাইন’ অনুসরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যেসব এলাকায় জমির সংকট রয়েছে, সেখানে দ্রুত ভূমি অধিগ্রহণ করে একক ও সমন্বিত প্রকল্প গ্রহণের তাগিদ দেন তিনি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর লজিস্টিকস ও যানবাহনের সংকট নিরসনে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার বিষয়েও সভায় আলোচনা হয়।

সভায় উপস্থিত পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি সরকারি প্রকল্প থেকে সর্বোচ্চ সুফল নিশ্চিত করতে এবং একই ধরনের কাজের পুনরাবৃত্তি এড়াতে পৃথক প্রকল্পের পরিবর্তে ‘প্রোগ্রামেটিক বা ক্লাস্টার অ্যাপ্রোচ’ গ্রহণের আহ্বান জানান। বর্তমান সরকারের বাকি চার থেকে সাড়ে চার বছরের মেয়াদে দৃশ্যমান অগ্রগতি অর্জনের লক্ষ্যে চলমান প্রকল্পগুলোর পুনর্মূল্যায়ন ও ‘রিস্কোপিং’র ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

চলতি ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরে ‘জনশৃঙ্খলা ও সুরক্ষা’ খাতের উন্নয়নে এডিপিতে মোট ২ হাজার ৬৬২ কোটি ৫ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ২ হাজার ৫৫২ কোটি ৮ লাখ টাকা এবং প্রকল্প ঋণ বা অনুদান হিসেবে ১০৯ কোটি ৯৭ লাখ টাকা রয়েছে।

‘সুরক্ষিত ও শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ’ গড়ার ভিশন সামনে রেখে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কাজ করছে। এর অংশ হিসেবে বিএনপির ‘নির্বাচনী ইশতেহার ২০২৬’র অঙ্গীকার অনুযায়ী মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ২৬টি প্রতিশ্রুতির ম্যাপিং সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়া সরকারের পঞ্চবার্ষিক অর্থনৈতিক সংস্কার ও উন্নয়ন কৌশল (জুলাই ২০২৬-জুন ২০৩১)-এর ‘থ্রি আর স্ট্র্যাটেজি’ অনুসরণ করে আইনশৃঙ্খলা খাতকে রূপান্তরধর্মী উন্নয়নের মাধ্যমে আরও সুসংহত করার কথা জানিয়েছে মন্ত্রণালয়। সভায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, অধীন ১০টি দপ্তর ও সংস্থার প্রধান এবং সংশ্লিষ্ট প্রকল্প পরিচালকরা উপস্থিত ছিলেন।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin