বিলি তার বাবাকে জিজ্ঞেস করল, স্পেস ক্যাডেট জ্যাকের মতো সময় ভ্রমণ করা কি আসলেই সম্ভব? বাবা ছেলের চুলে হাত বুলিয়ে বুঝিয়ে দিলেন যে, টেলিভিশন বা সিনেমায় বিষয়টি যেভাবে দেখানো হয়, বাস্তবে তা তেমন নয়। অন্ধকার আকাশ তখন শুক্র ও বৃহস্পতি গ্রহের আলোয় উজ্জ্বল, এমনকি মঙ্গল গ্রহও দেখা যাচ্ছে। বাবা গাড়ির ট্রাংক থেকে একটি ছোট প্লাস্টিকের টুল বের করলেন, যাতে বিলি টেলিস্কোপের আইপিসে চোখ রাখতে পারে। বৃহস্পতি গ্রহ বিলির প্রিয়, টেলিস্কোপে এর ব্যান্ডগুলো, গ্যালিলিওর চারটি চাঁদ এবং কখনো কখনো গ্রেট রেড স্পট দেখা যায়। খালি চোখে বা ছবিতে গ্রহটি লাল মনে হলেও টেলিস্কোপে তা হলুদ দেখায়।
বিলিকে সময় ভ্রমণের ধারণা বোঝাতে বাবা টেলিস্কোপটি পূর্ণ চাঁদের দিকে তাক করলেন। বিলি আইপিস দিয়ে তাকিয়ে প্রথমে কিছু দেখতে না পেলেও, বাবার নির্দেশে অপেক্ষা করতেই চাঁদ এবং এর পার্শ্বরেখা দেখতে পেল। কিছুক্ষণ পর বিলি লক্ষ্য করল, চাঁদ বৃত্তাকারে ঘুরছে এবং ভিউ ফিল্ড থেকে সরে যাচ্ছে। বাবা ব্যাখ্যা করলেন যে, টেলিস্কোপ স্থির থাকলেও চাঁদ পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করছে বলেই এমনটা ঘটছে। একইভাবে পৃথিবী সূর্যকে প্রদক্ষিণ করছে, যা দিন-রাত ও ঋতু পরিবর্তনের কারণ।
বাবা সময় ভ্রমণের জটিলতা বোঝাতে জ্যাকের উদাহরণ দিলেন। জ্যাক যদি কোনো টেবিলে বসে টাইম-শিফট বোতাম টিপে পাঁচ মিনিট অতীতে ফিরে যায়, তবে পৃথিবী ও সূর্য যেহেতু প্রতিনিয়ত গতিশীল, তাই টেবিলটি আর আগের জায়গায় থাকবে না। পৃথিবী ও সূর্য তাদের কক্ষপথে ক্রমাগত ঘুরছে, এমনকি পৃথিবী প্রতি মুহূর্তে ট্রিলিয়ন মাইল স্থানান্তরিত হচ্ছে। বাবা মুঠি দিয়ে সূর্য ও পৃথিবী দেখিয়ে বোঝালেন, ছয় মাস আগে বা পরে সময় ভ্রমণ করলে জ্যাক নিজেকে মহাকাশের শূন্যতায় খুঁজে পাবে।
সব যন্ত্রপাতি গুছিয়ে বাড়ি ফেরার সময় বিলি কিছুটা হতাশ হয়ে ভাবল, ভবিষ্যতের মানুষের সঙ্গে হয়তো তাদের কখনো দেখা হবে না। বাবা তাকে আশ্বস্ত করলেন যে, গাণিতিক হিসাবগুলো সঠিকভাবে করতে পারলে হয়তো তারা পৃথিবীতে আসতে পারবে। এমন সময় বিলি আকাশের দিকে তাকিয়ে একটি খসে পড়া তারা দেখতে পেল। ২০২৪ সালে বিজ্ঞানচিন্তার সেপ্টেম্বর সংখ্যায় প্রকাশিত এই লেখাটি যেন সেই খসে পড়া তারার মতোই এক রহস্যময় মহাজাগতিক বার্তা।





