রাশিয়ায় অবস্থিত জাপানের বড় তামাক উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান জাপান টোব্যাকোর (জেটি) চারটি প্রতিষ্ঠানের সম্পদ অস্থায়ী ব্যবস্থাপনায় নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। গত বৃহস্পতিবার দেওয়া এই ডিক্রির আওতায় ডনস্কয় তাবাক, পেরেস্লাভল তাবাক, জেটিআই ইয়েলেতস ও ক্রেস নেভা—এই চার প্রতিষ্ঠানের শেয়ারহোল্ডিং জেএসসি ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যাসেটসের ব্যবস্থাপনায় হস্তান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জেটি গ্রুপের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, সেন্ট পিটার্সবার্গ, রোস্তভ-না-দনু এবং লেনিনগ্রাদ ও লিপেৎস্ক অঞ্চলে প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদনকেন্দ্রগুলো রয়েছে।
জাপান সরকারের অর্থ মন্ত্রণালয় জেটি গ্রুপের ৩৭ দশমিক ৫৫ শতাংশ শেয়ারের মালিক, যা প্রতিষ্ঠানটির বৃহত্তম শেয়ারহোল্ডিং। আইন অনুযায়ী, কোম্পানিটির ইস্যু করা শেয়ারের অন্তত এক-তৃতীয়াংশ সরকারের নিয়ন্ত্রণে থাকা বাধ্যতামূলক। ১৯৯৯ সালে রাশিয়ায় কার্যক্রম শুরুর পর থেকে ২০০৭ সাল থেকে তামাক বাজারে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে জেটি। রাশিয়ায় তাদের প্রায় চার হাজার কর্মী রয়েছেন এবং মোট বিক্রির প্রায় ১০ শতাংশ আসে এই দেশ থেকে। ইউক্রেনে রুশ হামলার পর অনেক জাপানি কোম্পানি বাজার ছাড়লেও জেটি তাদের কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছিল।
রুশ সংবাদ সংস্থা তাসের ভাষ্য অনুযায়ী, বন্ধুপ্রতিম নয় এমন দেশের প্রতিষ্ঠানের সম্পদ সরকারের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার যে নিয়ম রাশিয়া ২০২৩ সালের এপ্রিলে চালু করেছিল, তার অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর পেছনে রুশ নাগরিকদের ওপর বিদেশি নিষেধাজ্ঞার প্রতিক্রিয়ার কথা বলা হলেও জেটির বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করা হয়নি।
এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে টোকিও তা অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে। জাপানের চিফ ক্যাবিনেট সেক্রেটারি কিহারা মিনোরু শুক্রবার এই প্রতিবাদ জানান। দেশটির অর্থ, বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী রিওসেই আকাজাওয়া এবং অর্থমন্ত্রী সাতসুকি কাতাইয়ামাও সিদ্ধান্তটি প্রত্যাহারের দাবি তুলেছেন। জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ইউরোপীয়-বিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালক কিমিতাকে নাকামুরা রাশিয়ান রাষ্ট্রদূত নিকোলাই নোজদ্রেভের কাছে প্রতিবাদ জানিয়েছেন। এছাড়া উপমহাপরিচালক ইশিগাকি তোমোয়াকি মস্কোতে রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের কাছে প্রতিবাদপত্র হস্তান্তর করেছেন।
জেটি গ্রুপ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা রাশিয়ায় সব বিধিবিধান মেনেই কাজ করছে এবং বর্তমান ডিক্রির প্রভাব ও পরবর্তী করণীয় খতিয়ে দেখছে। সম্প্রতি বিতর্কিত দ্বীপগুলোর মালিকানা নিয়ে বিরোধ ও এক জাপানি সাংবাদিক আটকের ঘটনায় রাশিয়া-জাপান সম্পর্কে টানাপোড়েন আরও বেড়েছে। এর আগে ভালদাই ক্লাবের অধিবেশনে পুতিন জাপানের সঙ্গে সুসম্পর্কের আগ্রহ দেখালেও, বর্তমান এই বিরোধ সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পথকে আরও জটিল করে তুলছে বলে মনে করা হচ্ছে।





