জীবনবিমার লোভে একের পর এক স্ত্রীকে হত্যা, নেটফ্লিক্সে থমাস র‍্যান্ডলফের কাহিনি

Published: October 10, 2026, 2:37 am

২০০৮ সালের ৮ মে রাতে লাস ভেগাসের জরুরি নম্বরে ফোন করে থমাস র‍্যান্ডলফ দাবি করেছিলেন, বাড়িতে ঢুকে পড়া এক ব্যক্তিকে তিনি গুলি করে মেরেছেন এবং তাঁর স্ত্রীকেও গুলি করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে একে আত্মরক্ষার ঘটনা মনে হলেও পরবর্তীতে র‍্যান্ডলফের জীবনের অন্ধকার অধ্যায় উন্মোচিত হতে থাকে। তাঁর একাধিক বিয়ে, স্ত্রীদের রহস্যজনক মৃত্যু এবং জীবনবিমার অর্থের যোগসূত্র নিয়ে নেটফ্লিক্সের নতুন তথ্যচিত্র ‘দ্য উইডোয়ার: টিল ডেথ ডু আস পার্ট’ নির্মিত হয়েছে। পরিচালক ক্রিস স্মিথের এই তথ্যচিত্রে ‘ডেটলাইন এনবিসি’র প্রযোজক ড্যান স্লেপিয়ান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন, যিনি ২০০৮ সাল থেকে প্রায় ১৫ বছর ধরে এই মামলাটি নিয়ে কাজ করেছেন।

র‍্যান্ডলফের অতীত ঘেঁটে দেখা যায়, ১৯৭৫ সালে ক্যাথিকে বিয়ে করার সময় তিনি তাঁর নামে জীবনবিমা করেছিলেন। ক্যাথি পরে বিবাহবিচ্ছেদ নিয়ে অন্যত্র বিয়ে করেন এবং তাঁর নতুন স্বামী স্টিভ থমাস জানান, র‍্যান্ডলফ একসময় ক্যাথিকে হত্যার জন্য তাঁকে প্ররোচিত করেছিলেন। ১৯৮৩ সালে ক্যাথির সঙ্গে বিচ্ছেদের দিনই র‍্যান্ডলফ বেকি গল্টকে বিয়ে করেন। তিন বছর পর ইউটাহর বাড়িতে বেকির মাথায় গুলিবিদ্ধ মরদেহ পাওয়া যায়। সে সময় র‍্যান্ডলফ ৫ লাখ ডলার জীবনবিমার অর্থ পান। ১৯৮৮ সালে তাঁকে হত্যার দায়ে বিচারের মুখোমুখি করা হলেও র‍্যান্ডলফ খালাস পেয়ে যান, কারণ তাঁর আইনজীবীরা দাবি করেন মৃত্যুটি আত্মহত্যা ছিল। তবে সন্দেহ সেখানেই থামেনি।

২০০৮ সালের ঘটনায় র‍্যান্ডলফের ষষ্ঠ স্ত্রী শ্যারন কস নিহত হন। মাদার্স ডে-র রাতে বাড়িতে গোলাগুলির শব্দ শোনার পর র‍্যান্ডলফ পুলিশকে ফোন করেন। তবে তদন্তকারী ডিন ও’কেলি পুলিশের ফোন পেতে বিলম্ব, গুলির খোসা না পাওয়া এবং মুখোশধারীর পোশাকে রক্তের দাগ না থাকা নিয়ে অসংগতি খুঁজে পান। শ্যারনের মেয়ে কলিন জানান, বিয়ের মাত্র তিন মাসের মধ্যে র‍্যান্ডলফ শ্যারনের উইলের সুবিধাভোগী হওয়ার পাশাপাশি ৩ লাখ ৫০ হাজার ডলারের জীবনবিমা করেছিলেন। এছাড়া উত্তর ক্যারোলাইনায় র‍্যান্ডলফের পরিচিত মাইক মিলারের পরিবার জানায়, র‍্যান্ডলফ স্ত্রীকে হত্যার বিষয়ে মিলারের সঙ্গে আলোচনা করেছিলেন।

বেকি ও শ্যারন ছাড়াও র‍্যান্ডলফের জীবনে আরও তিন নারীর মৃত্যু বা বিচ্ছেদ ঘিরে রহস্য রয়েছে। গেইনাল অলমনকে বিয়ে করে জীবনবিমা করেছিলেন তিনি। ফ্রান্সিস র‍্যান্ডলফের ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচারের পর মৃত্যুর ঘটনায় র‍্যান্ডলফ হাসপাতালের বিরুদ্ধে মামলা করে জীবনবিমার অর্থ হাতিয়ে নেন। এর আগে ফ্রান্সিসের কাছ থেকে নিজের উইল পড়ে শোনানোর ভিডিও ধারণ করেছিলেন তিনি। এছাড়া লিওনা স্ট্যাপলটন নামে তাঁর আরেক স্ত্রীর ক্যানসারে মৃত্যু হয়। এই ধারাবাহিকতার কারণে তাঁকে ‘ব্ল্যাক উইডোয়ার’ তকমা দেওয়া হয়েছে, যদিও তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করে আসছেন।

তদন্তের অংশ হিসেবে ড্যান স্লেপিয়ান ও ডিন ও’কেলি দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে র‍্যান্ডলফের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড ক্যামেরাবন্দী করেন। ২০০৯ সালের জানুয়ারিতে ইউটাহতে মায়ের বাড়ি থেকে গ্রেপ্তারের দৃশ্য থেকে শুরু করে কারাগারে র‍্যান্ডলফের সাক্ষাৎকার পর্যন্ত সব কিছুই তথ্যচিত্রের গুরুত্বপূর্ণ নথিতে পরিণত হয়েছে। র‍্যান্ডলফ নিজের পক্ষে প্রচারের আশায় ক্যামেরার সামনে কথা বললেও শেষ পর্যন্ত সেই ফুটেজই তাঁর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।

২০১৭ সালে শ্যারন কস হত্যার দায়ে র‍্যান্ডলফকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। তবে তিন বছর পর নেভাদা সুপ্রিম কোর্ট পুরোনো মামলার প্রমাণ ব্যবহারের ত্রুটির কারণে সেই দণ্ড বাতিল করেন। ২০২৩ সালের পুনরায় বিচারে জুরি তাঁকে আবারও দোষী সাব্যস্ত করে এবং ৬০ বছর থেকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। বর্তমানে ৭১ বছর বয়সী র‍্যান্ডলফ নেভাদার লাভলক কারেকশনাল সেন্টারে বন্দী রয়েছেন এবং এখনো নিজের নির্দোষ হওয়ার দাবি অটুট রেখেছেন। ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরেও তাঁর একটি আপিল খারিজ হয়েছে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo