অভিনেতা নানা পাটেকারের মৃত্যুর পর নিজের ‘ইভিল ডেড’ মন্তব্যে অনড় থাকার কথা জানিয়েছেন সাবেক মিস ইন্ডিয়া ইউনিভার্স ও অভিনেত্রী তনুশ্রী দত্ত। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) গোয়ায় নিজের বাড়িতে ৭৫ বছর বয়সে হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে নানা পাটেকার মারা যাওয়ার পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই মন্তব্য করেন তিনি। ইনস্টাগ্রামে এক ভিডিও প্রকাশের পাশাপাশি তিনি ‘ইভিল ডেড’ বা ‘অশুভের মৃত্যু হয়েছে’—এই শব্দগুচ্ছ ব্যবহার করেন, যা নিয়ে ইন্টারনেটে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।
বৃহস্পতিবার রাতে প্রকাশিত আরেকটি ভিডিওতে তনুশ্রী নিজের মন্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি ভেবেচিন্তেই বলেছেন। তিনি নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার সম্মুখীন হওয়ার কথা স্বীকার করে জানান, ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু তার কাছে এটাই বাস্তব। তনুশ্রী প্রশ্ন তোলেন, মানুষের মৃত্যুর সঙ্গে কি তার অপকর্মের হিসাবও শেষ হয়ে যায়? তিনি বলেন, কেউ যদি নির্যাতন বা হয়রানি করে, তবে মৃত্যুর পর কি সেই দায় মুছে যায়?
লখনৌ যাওয়ার পথে নানা পাটেকারের মৃত্যুর সংবাদ পান তনুশ্রী। সেখানে এক অনুষ্ঠানে তিনি নানা পাটেকারের মৃত্যু নিয়ে বিস্তারিত কোনো প্রতিক্রিয়া দিতে অস্বীকৃতি জানান। তিনি বলেন, “আমার কোনো প্রতিক্রিয়া নেই। আজকের দিনটি তাদের জন্য, তাদের অনুষ্ঠান সফল করার জন্য। আর কী বলব? যিনি চলে গেছেন, তিনি তো চলেই গেছেন।” এ সময় তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রলকারী ও ইউটিউবারদের সমালোচনা করে দাবি করেন, ২০২০ সালের পর তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা চালানো হয়েছিল এবং তার গাড়ির ব্রেক নষ্ট করে দেওয়া হয়েছিল।
উল্লেখ্য যে, ২০১৮ সালে ‘মি টু’ আন্দোলনের সময় তনুশ্রী দত্ত অভিযোগ করেছিলেন, ২০০৯ সালে ‘হর্ন ওকে প্লিজ’ সিনেমার একটি গানের শুটিংয়ের সময় নানা পাটেকার তাকে যৌন হয়রানি করেছিলেন। নানা পাটেকার শুরু থেকেই এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। তনুশ্রীর দাবি অনুযায়ী, ২০০৮ সালেই তিনি সিনে অ্যান্ড টিভি আর্টিস্টস অ্যাসোসিয়েশনের কাছে অভিযোগ জানিয়েছিলেন, কিন্তু বিষয়টি ফৌজদারি অপরাধের আওতাভুক্ত হওয়ায় কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
২০১৮ সালের ১৩ অক্টোবর তনুশ্রীর আইনজীবী নীতিন সাতপুতে ওশিওয়ারা থানায় একটি আবেদন জমা দিয়ে নানা পাটেকার, নৃত্য পরিচালক গণেশ আচার্য, প্রযোজক সামি সিদ্দিকি ও পরিচালক রাকেশ সারাংয়ের নারকো অ্যানালাইসিস, ব্রেন ম্যাপিং এবং মিথ্যা শনাক্তকরণ পরীক্ষার দাবি জানান। পরবর্তীতে ২০১৯ সালের জুনে পুলিশ নানা পাটেকারকে এই যৌন হয়রানির অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেয়।





