ভারতের নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে বিরোধীদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রাজধানী দিল্লিতে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিরাপত্তা বাহিনীর ‘যুদ্ধকালীন মোতায়েন’ ও দিল্লি অবরুদ্ধ করার পদক্ষেপকে ‘লজ্জাজনক’ বলে মন্তব্য করেছেন কংগ্রেসের সংসদ সদস্য ও জাতিসংঘের সাবেক জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক শশী থারুর। শনিবার সকাল থেকে এখন পর্যন্ত এসব বিক্ষোভ থেকে অন্তত পাঁচ হাজার আন্দোলনকারীকে আটক করেছে দেশটির পুলিশ।
বিক্ষোভে অংশ নিতে দিল্লিতে পৌঁছানোর পরপরই আটক হয়েছেন রাজনৈতিক দল ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) শীর্ষ নেতৃত্ব। বিবিসির লাইভ প্রতিবেদনের তথ্যমতে, বিমান থেকেই আটক করা হয় সিজেপির শীর্ষ নেতা অভিজিৎ দীপকে, আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাসকে। এছাড়া পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল এবং বামপন্থী ছাত্র নেত্রী নেহা বোরাকেও আটক করেছে পুলিশ। এর আগে সকালে জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠিকে তাঁর নিজ বাড়ি থেকে এবং সুপ্রিম কোর্টের কয়েকজন আইনজীবীসহ একাধিক আন্দোলনকারীকে আটক করা হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় শশী থারুর জানান, রাত দুইটার পর দিল্লিতে ফিরে তিনি অত্যন্ত অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি প্রত্যক্ষ করেছেন। তাঁর অভিযোগ, মানুষের চলাচলের স্বাধীনতা পুরোপুরি কেড়ে নেওয়া হয়েছে এবং নাগরিকেরা যাতে নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে প্রশ্ন তুলতে না পারেন, সে জন্যই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। রাজধানীর প্রাণকেন্দ্রে ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়ার সমালোচনা করে তিনি বলেন, এটি সবচেয়ে পশ্চাৎমুখী ও দমনমূলক পদক্ষেপগুলোর একটি। নির্বাচন কমিশনের ওপর ব্যারিকেড দিয়ে মানুষের আস্থা ফেরানো যাবে না উল্লেখ করে থারুর বলেন, নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন এড়াতে যে সরকার তার রাজধানীকেই দুর্গে পরিণত করে, তারা আসলে মানুষের সন্দেহ আরও বাড়িয়ে তোলে। জনসাধারণের প্রশ্নের জবাব যত দ্রুত দেওয়া হবে, পরিস্থিতি তত দ্রুত শান্ত হবে।
ভারতের নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ককরোচ জনতা পার্টি ও বামপন্থী দলগুলোর টানা বিক্ষোভের জেরে শুক্রবার থেকেই দিল্লিতে থমথমে পরিস্থিতি দেখা দেয়। বেশ কয়েকটি স্থানে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। নিউইয়র্ক টাইমসের সাংবাদিক লিদিয়া পলগ্রিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, দিল্লির রাস্তাজুড়ে পুলিশের তাণ্ডব চলছে এবং যাকে পাওয়া যাচ্ছে তাকেই ধরে বাস ও পুলিশের ভ্যানে তুলে নেওয়া হচ্ছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, রাত ২টার পর দিল্লিতে ফিরে এমন পরিস্থিতি খুব কমই দেখেছেন। থারুর বলেন, ‘মানুষের চলাচলের স্বাধীনতা পুরোপুরি কেড়ে নেয়া হয়েছে।’ তাঁর অভিযোগ, নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে নাগরিকেরা যাতে শান্তিপূর্ণভাবে প্রশ্ন তুলতে না পারেন, সে জন্যই এমন ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।





