ঠাকুরগাঁও-১ আসনের আসন্ন উপনির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে সেনাবাহিনী মোতায়েন এবং সদর উপজেলার ইউএনও খায়রুল ইসলামকে অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ ১১টি রাজনৈতিক দলের জোট। বুধবার নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক শেষে জোটের নেতারা এই দাবি তুলে ধরেন।
বৈঠক শেষে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলীয় জোটের সমন্বয়ক এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ সাংবাদিকদের জানান, নির্বাচনে চারটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব পেশ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে অবিলম্বে সেনাবাহিনী মোতায়েন, ইউএনও খায়রুল ইসলামকে প্রত্যাহার করে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত, নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভোটগ্রহণ, গণনা ও ফলাফল প্রকাশের প্রক্রিয়া সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে কেন্দ্রীয়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা।
সেনাবাহিনী মোতায়েনের দাবির পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অন্যান্য সংস্থার ওপর জনগণের আস্থার সংকট থাকলেও সেনাবাহিনীর ওপর মানুষের আস্থা অটুট রয়েছে। তিনি দাবি করেন, সেনাবাহিনী মাঠে থাকলে ভোটাররা কোনো প্রকার ভয়ভীতি ছাড়াই ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হতে পারবেন। এ সময় তিনি ঠাকুরগাঁও-১ আসনে প্রায় ১ লাখ ৬৮ হাজার হিন্দু ভোটারের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তাদের ওপর বিভিন্ন হুমকি ও মারধরের অভিযোগ তোলেন।
হামিদুর রহমান আযাদ সতর্ক করে বলেন, ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করা না গেলে এর প্রভাব কেবল একটি আসনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং সারা দেশে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়তে পারে। এর রাজনৈতিক পরিণতির দায় নির্বাচন কমিশন ও সরকার উভয়কেই নিতে হবে। ১৯৯৪ সালের উপনির্বাচনের প্রেক্ষাপট স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, তৎকালীন সরকারের পতনের মতো পরিস্থিতি যেন তৈরি না হয়, সে বিষয়ে কমিশনকে সতর্ক থাকতে হবে।
নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, শুধু আশ্বাস বা মৌখিক বক্তব্যে সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়, মাঠপর্যায়ে তার বাস্তব প্রতিফলন প্রয়োজন। কমিশন নিজেদের স্বাধীন দাবি করলেও তা মাঠপর্যায়ের কাজের মাধ্যমেই প্রমাণ করতে হবে। এছাড়া, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের রোডম্যাপে মন্ত্রীর বক্তব্যের কারণে পরিবর্তন আনা এবং ভোটার স্থানান্তরের অনিয়ম নিয়েও কমিশনকে অবহিত করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
জোটের সমন্বয়ক আরও জানান, কমিশনের পক্ষ থেকে ইতিবাচক আশ্বাস পাওয়া গেছে। তবে ভোটের সার্বিক পরিস্থিতি ও ফলাফলের ওপর ভিত্তি করেই জোট তাদের চূড়ান্ত অবস্থান ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।
তাঁদের ওপর হুমকি-ধমকি ও মারধরের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।’তিনি বলেন, ‘সংবিধানের সপ্তম ভাগের ১১৮ থেকে ১২৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে নির্বাচন কমিশনকে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।





