হুতিদের হামলা বন্ধে ১০০ কোটি ডলার দিতে চায় সৌদি, আলোচনায় আসিম মুনির

Published: October 28, 2026, 5:03 am

ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের আক্রমণ ও হামলা পুরোপুরি বন্ধ করতে ১০০ কোটি ডলারের একটি নগদ অর্থ সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছে সৌদি আরব। এই যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব নিশ্চিত করতে এবং সৌদি অবকাঠামোতে হুতিদের হামলা রুখতে তেহরানে মধ্যস্থতা করছে ইরান। ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম ‘ইসরাইল হায়োম’-এর প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, উপসাগরীয় কূটনৈতিক সূত্রের ভিত্তিতে এই তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমান একটি হারকিউলিস সামরিক পরিবহন বিমানে সশরীরে নগদ ১০০ কোটি ডলার নিয়ে আকস্মিকভাবে তেহরান সফর করেন। তবে শেষ পর্যন্ত এই অর্থ হস্তান্তর হয়েছে কিনা, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

তেহরানে অনুষ্ঠিত এই গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক আলোচনায় আঞ্চলিক নিরাপত্তা জোরদারে বেশ কয়েকটি দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রীর এই সফরে মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা জোটের সদস্যদেশগুলোর প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এবং তুরস্কের গোয়েন্দাপ্রধান ইব্রাহিম কালিন যোগ দেন। অন্যদিকে ইরানের পক্ষে প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহসেন রেজায়ি এবং ইসলামিক রেভ্যুলুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, চলমান সংকট নিরসনে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে উত্তেজনা হ্রাস, সংলাপ ও কূটনৈতিক সমাধানে উৎসাহ দেওয়ার লক্ষ্যে মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়াও কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতার প্রচেষ্টাকে সমর্থন জানানো এই সফরের অন্যতম উদ্দেশ্য। উল্লেখ্য, মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির নিয়ম অনুযায়ী কোনো সদস্যদেশ আক্রান্ত হলে সম্মিলিত সামরিক সহায়তা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তবে তুরস্ক ও পাকিস্তান এখন পর্যন্ত সরাসরি যুদ্ধে অংশ নেওয়া বা অতিরিক্ত সেনা না পাঠিয়ে কেবল সামরিক উপদেষ্টা পাঠানোর মধ্যেই নিজেদের সহায়তা সীমাবদ্ধ রেখেছে।

সৌদি আরবের বিমানবন্দর ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তেল অবকাঠামো লক্ষ্য করে হুতিদের ধারাবাহিক হামলায় দেশটিকে বিপুল আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে। হুতিদের আক্রমণের কারণে রিয়াদ বিমানবন্দর কয়েক দিনের জন্য বন্ধ রাখতে হয়েছিল এবং একটি বড় আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ সম্মেলনও পিছিয়ে দিতে বাধ্য হয় সৌদি কর্তৃপক্ষ। একই সময়ে হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী ট্যাংকারে ইরানের হামলার কারণে মধ্যপ্রাচ্য থেকে সামগ্রিক তেল রপ্তানি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। মূলত নিজ দেশের পরিকাঠামোর ওপর এসব ক্ষতিকারক হামলা থামাতেই সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী আকস্মিক তেহরান সফরের সিদ্ধান্ত নেন।

প্রস্তাবিত এই বিশাল অঙ্কের সহায়তার বিষয়ে ইসরাইল হায়োমকে দেওয়া বক্তব্যে এক সৌদি কর্মকর্তা জানান, তিন বছর আগের চুক্তি বাস্তবায়নে ব্যর্থতাই হুতিদের সঙ্গে চলমান সংঘাতের অন্যতম প্রধান কারণ। বর্তমান শান্তি প্রস্তাব অনুযায়ী, হুতি নিয়ন্ত্রিত এলাকার বেসামরিক অবকাঠামো পুনর্গঠন এবং সেখানকার সরকারি চাকরিজীবীদের বকেয়া বেতন মেটাতে এই ১০০ কোটি ডলার ব্যয় করার কথা ছিল। তবে হুতিদের দাবি, সৌদি আরব আগের চুক্তি থেকে পিছু হটেছে এবং এই অভিযোগ এনেই তারা পুনরায় হামলার পেছনে যুক্তি দেখাচ্ছে, যেখানে ইরান তাদের সমর্থন জোগাচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin