ইসরায়েল নির্বাচনে আরব দলগুলোর চমক, ঝুঁকিতে নেতানিয়াহু

Published: October 28, 2026, 6:25 pm

ইসরায়েলের জাতীয় নির্বাচনে প্রধান দুটি আরব রাজনৈতিক দলের জোরালো অবস্থান ও আরব ভোটারদের রেকর্ড উপস্থিতি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকারের বিদায়ের পথ তৈরি করতে পারে। মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে চূড়ান্ত ফল এখনো ঘোষণা না হলেও, সম্প্রচারমাধ্যমগুলোর বুথফেরত জরিপ অনুযায়ী সামাজিকভাবে রক্ষণশীল ‘ইউনাইটেড আরব লিস্ট’ (রাআম) এবং বামপন্থী ‘জয়েন্ট লিস্ট’ পার্লামেন্টে রেকর্ডসংখ্যক আসন পেতে যাচ্ছে। ফলে নতুন সরকার গঠনে এই আরব দলগুলোর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠার আভাস দেখা যাচ্ছে। ভোটকেন্দ্র থেকে বেরিয়ে আসা ভোটারদের সাক্ষাৎকারের ওপর ভিত্তি করে বুথফেরত জরিপের মাধ্যমে সম্ভাব্য ফলের এই ধারণা পাওয়া যায়।

আরব দলগুলোর এই সাফল্য ক্ষমতার রাজনীতিতে প্রভাব ফেললেও ইসরায়েলে তাদের নিয়ে সরকার গঠন এখনো বেশ জটিল। কারণ, অনেক ইহুদি ইসরায়েলি মনে করেন, পার্লামেন্টে সরকার গঠনের জন্য আরব আইনপ্রণেতাদের সমর্থনের ওপর নির্ভর করা মোটেও উচিত নয়। তবে ইসরায়েলের মোট জনসংখ্যার প্রায় ২০ শতাংশই আরব নাগরিক। নির্বাচনে আরব ভোটারদের বিপুল অংশগ্রহণকে নিজেদের হতাশা ও নিরাশাকে আশায় রূপান্তরের প্রতীক হিসেবে দেখছেন রাআমের নেতা মনসুর আব্বাস। এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, সম্ভাব্য সব উপায়েই তিনি নেতানিয়াহু সরকারের পরিবর্তন চান। তার প্রথম অগ্রাধিকার হলো এমন একটি সরকার গঠনের সুযোগ নিশ্চিত করা, যার মাধ্যমে এই লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হবে।

ইসরায়েলের অধিকাংশ আরব নাগরিক মূলত ১৯ ৪৮ সালে ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সময়কার আরব-ইসরায়েল যুদ্ধে নিজ ঘরবাড়ি না ছেড়ে থেকে যাওয়া ফিলিস্তিনিদের বংশধর। তারা সাধারণত ইহুদি ইসরায়েলিদের থেকে আলাদা শহরে বসবাস করেন এবং সহিংসতা ও আবাসনসংক্রান্ত বৈষম্যমূলক নীতির শিকার হন। ইসরায়েলের ‘ইহুদি রাষ্ট্র’ পরিচয়সহ নানা বিষয়ে মতবিরোধ থাকায় কয়েক দশক ধরে এদের অনেকেই ভোট দেওয়া থেকে বিরত থেকেছেন। তবে পশ্চিম তীর ও গাজায় ফিলিস্তিনিদের প্রতি নেতানিয়াহুর আচরণ এবং দেশের ভেতরে নিজেদের দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক করে রাখার নীতিতে তারা চরম ক্ষুব্ধ। পুরো নির্বাচনী প্রচারজুড়েই নেতানিয়াহু প্রকাশ্যে আরববিদ্বেষী মনোভাব কাজে লাগিয়ে ভোট চেয়েছেন।

মঙ্গলবার নির্বাচন চলাকালে ইহুদি ও আরব—উভয় সম্প্রদায়ের বসবাসস্থল লোদ শহরের ভোটকেন্দ্রগুলোতে মানুষের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। সেখানে ভোট দেওয়ার পর ৩৯ বছর বয়সী আরব-ইসরায়েলি খুলুদ আল-জেইনাতি বলেন, "আমি খুব আশাবাদী। মানুষ বুঝতে পারছে, এটা সাধারণ কোনো নির্বাচন নয়। আমরা পরিবর্তন চাই।" জীবনের নানা ক্ষেত্রে আরব সম্প্রদায়কেই সবচেয়ে বেশি মূল্য দিতে হয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, "তাই আমাদের ঘর থেকে বেরিয়ে ভোটে অংশ নেওয়া জরুরি। আশা করি, পরবর্তী সরকার কেমন হবে, তা ঠিক করতে আমাদের ভোট সত্যিই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং আমাদের সবার জীবনে ভালো পরিবর্তন আনবে।"

নির্বাচনে ইতিবাচক ফলের আভাস পাওয়া দুই আরব দলের মধ্যে কেবল রাআমের এর আগে সরকারে যোগ দেওয়ার অভিজ্ঞতা রয়েছে। ২০২১ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেটের স্বল্পস্থায়ী নেতানিয়াহুবিরোধী জোট সরকারের অংশ হয়েছিল দলটি। তবে ওই জোটে রাআমের অন্তর্ভুক্তিতে অনেক ডানপন্থী ইহুদি ভোটার ক্ষুব্ধ হন এবং প্রায় এক বছর পরই বেনেটের সরকারের পতন ঘটে। পরবর্তীতে সেই ভোটারদের সমর্থনে নেতানিয়াহু দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে উগ্র ইহুদিবাদী সরকার গঠন করেন। তবে এবার আরব ভোটারদের নজিরবিহীন অংশগ্রহণে নেতানিয়াহুর সেই সরকারই এখন ক্ষমতা হারানোর আশঙ্কায় পড়েছে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo