অন্ধ্র উপকূলে ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের আঘাত, ৫ জনের প্রাণহানি

Published: October 28, 2026, 12:57 pm

ভারতের অন্ধ্র প্রদেশ উপকূলে আছড়ে পড়েছে অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’। বুধবার (২৮ অক্টোবর) ভোরে উপকূল অতিক্রমের পর ঝড়টি পুরোপুরি স্থলভাগে প্রবেশ করতে প্রায় ছয় ঘণ্টারও বেশি সময় নেয়। ঘূর্ণিঝড়ের তাণ্ডবে রাজ্যটির পৃথক এলাকায় গাছ উপড়ে পড়ে এবং বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মোট পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে।

ভারতের আবহাওয়া বিভাগ (আইএমডি) জানিয়েছে, স্থলভাগে আঘাত হানার সময় অর্ণব তাদের শক্তিমাত্রার তৃতীয় সর্বোচ্চ শ্রেণি অর্থাৎ ‘অতি প্রবল’ ঘূর্ণিঝড় হিসেবে উপস্থিত ছিল। পরবর্তীতে সকাল সাড়ে আটটার দিকে শক্তি হারিয়ে এটি কিছুটা দুর্বল হয়ে ‘প্রবল’ ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেয়। সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে প্রকাশিত আইএমডির বুলেটিন অনুযায়ী, অন্ধ্র প্রদেশ ও ইয়ানাম উপকূলের ওপর অবস্থান করা ঝড়টির কেন্দ্রীয় অংশ তখন পুরোপুরি স্থলভাগে প্রবেশ করে। স্থলভাগে ঢোকার সময় বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১২৫ থেকে ১৩৫ কিলোমিটার, যা দমকা হাওয়ার রূপে ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছায়। সে সময় ঝড়টির কেন্দ্র ছিল নরসাপুর থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার পূর্বে, ইয়ানাম থেকে ৪০ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণ-পশ্চিমে, কাকিনাড়া থেকে ৬০ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং মাচিলিপত্তনম থেকে ৯০ কিলোমিটার পূর্ব-উত্তর-পূর্বে।

ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে অন্ধ্র প্রদেশ ও প্রতিবেশী রাজ্য ওডিশার বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক ভারী বর্ষণ হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতি ও ঝুঁকি এড়াতে আগেই দুটি রাজ্য থেকে ১ লাখ ৮০ হাজারের বেশি বাসিন্দাকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। বুধবার সকাল সাড়ে আটটা পর্যন্ত অন্ধ্র প্রদেশের বিশাখাপত্তনমে সর্বোচ্চ ৩১৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এছাড়া বিজয়নগরমে ৩০১ মিলিমিটার, আনাকাপল্লেতে ২৭৫ মিলিমিটার, শ্রীকাকুলামে ২৫৭ মিলিমিটার এবং কৃষ্ণা জেলায় ২২৩ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। ওডিশার কোরাপুটে ১৮৮ মিলিমিটার, গঞ্জামে ১৬১ মিলিমিটার এবং গজপতিতে ১৩৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়।

ঝড়ের প্রভাবে বহু এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার পাশাপাশি বিশাল বিশাল গাছ উপড়ে পড়েছে। বেশ কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে এবং কয়েকটি ট্রেনের সূচি বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া সার্বিক পরিস্থিতির কারণে বিশাখাপত্তনম ও বিজয়ওয়াড়াগামী একাধিক উড়োজাহাজের বিমান চলাচল স্থগিত রাখা হয়।

প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বুধ ও বৃহস্পতিবারও দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া এবং ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। এর ফলে নিচু অঞ্চল প্লাবিত হওয়ার পাশাপাশি সড়ক যোগাযোগব্যবস্থা ও বিদ্যুৎ সরবরাহে বাড়তি ভোগান্তির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আবহাওয়া বিভাগ এবং স্থানীয় প্রশাসন যৌথভাবে ঝড়ের গতিপথ ও বৃষ্টিপাতের পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Alokito Bangladesh