টিকটক ভিডিওর কিরিচেই খুন কিশোর হৃদয়, গ্রেপ্তার ৬

Published: September 30, 2026, 2:54 pm

চট্টগ্রাম নগরের খুলশী এলাকার ওয়্যারলেস কলোনিতে কিশোর গ্যাংয়ের অভ্যন্তরীণ বিরোধের জেরে মো. হৃদয় (১৬) নামের এক কিশোরকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। নিহত হৃদয় তার বাবার সঙ্গে তার বাবার ভ্যানে সবজি বিক্রিতে সহায়তা করত। ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ মঙ্গলবার রাতেই অভিযান চালিয়ে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে একজন প্রাপ্তবয়স্ক এবং বাকি পাঁচজনের বয়স ১৪ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এলাকায় ‘সেভেন স্টার’ ও ‘ফাইভ স্টার’ নামে দুটি কিশোর গ্যাং সক্রিয় রয়েছে। সপ্তাহখানেক আগে ‘সেভেন স্টার’ গ্রুপের সদস্যরা কিরিচ ও লোহার চাকতি হাতে সড়কে প্রকাশ্যে মহড়া দিয়ে টিকটকে ভিডিও ছড়িয়েছিল। পুলিশ জানিয়েছে, হৃদয়ের হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত কিরিচটি ওই টিকটক ভিডিওতে দেখা গিয়েছিল। ঘটনাস্থলের পাশ থেকেই পুলিশ রক্তমাখা কিরিচটি উদ্ধার করেছে।

ঘটনার রাতে মোহাম্মদ কামরুল (২৫) নামের এক যুবক হৃদয়কে তার বাসা থেকে ডেকে নিয়ে যায়। তালতলা এলাকায় পৌঁছালে আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা তাকে অটোরিকশা থেকে নামিয়ে ফেলে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, হামলাকারীরা সবাই ধারালো অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত ছিল এবং অত্যন্ত মারমুখী অবস্থানে থাকায় স্থানীয় কেউ হৃদয়কে বাঁচাতে এগিয়ে আসার সাহস পায়নি। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, প্রথমে ১৪ বছর বয়সী এক কিশোর কিরিচ দিয়ে হৃদয়ের কানে কোপ দেয় এবং পরে অন্যরা ছুরি দিয়ে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন।

খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর রহিম জানান, ‘ফাইভ স্টার’ গ্রুপের সদস্য হৃদয়ের সঙ্গে ‘সেভেন স্টার’ গ্রুপের সদস্যদের সিনিয়র-জুনিয়র নিয়ে কিছুদিন আগে কথা-কাটাকাটি হয়েছিল। যদিও বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসা করা হয়েছিল, কিন্তু হৃদয় বিষয়টি নিয়ে ব্যঙ্গ করায় ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে ডেকে এনে হত্যা করা হয়। নিহতের পরিবারের দাবি, তারা হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চান। হৃদয়ের বাবা কুরবান আলী জানান, তিনি দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী এবং ছেলেকে হারিয়ে তিনি দিশেহারা।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে আরও অভিযোগ রয়েছে যে, ‘ফাইভ স্টার’ গ্রুপটি খুলশী থানা যুবদলের আহ্বায়ক হেলাল উদ্দিনের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। তবে হেলাল উদ্দিন এ অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছেন, তিনি হৃদয়কে চেনেন না এবং ওই এলাকায় তার কোনো কিশোর গ্যাং নেই। অন্যদিকে, ‘সেভেন স্টার’ গ্রুপটি নগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ওয়াকিল হোসেন ওরফে বগা ও তার ভাই রকিবুল ইসলামের নির্দেশে পরিচালিত হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। ওয়াকিল বর্তমানে পলাতক এবং তার বিরুদ্ধে অস্ত্রবাজি ও দখলের অভিযোগে মামলা রয়েছে। তবে তার ভাই রকি হোসেন এসব অভিযোগকে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র বলে দাবি করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

সেখানে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।.চট্টগ্রামে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে কিশোরকে খুন, আটক ৫.খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর রহিম প্রথম আলোকে বলেন, জরুরি সেবা ৯৯৯-এ খবর পেয়ে পুলিশ মঙ্গলবার রাতেই অভিযান শুরু করে।

স্থানীয় বাসিন্দারা দুই গ্রুপের বিরুদ্ধে দখলসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ করেছেন।গত ৮ জুন সরকারি জায়গা দখলের চেষ্টা ও অস্ত্রবাজির অভিযোগে ওয়াকিলকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo