আন্তর্জাতিক অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের সাবেক প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজের বিরুদ্ধে তার নিজ বাড়ির দখল নেওয়া এবং কারাগারে থেকেও নির্যাতনের অভিযোগ তুলেছেন তার ভাই অধ্যাপক শাহনওয়াজ আহমেদ শিশির। বুধবার ঢাকার কোর্ট রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ উত্থাপন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, রাজধানীর উত্তরা ১১ নম্বর সেক্টরের ১৫ নম্বরের বাড়িটি ১৯৯৭ সালে তুরিন আফরোজের মা সামসুন নাহার তসলিম তার ছেলে শাহনওয়াজকে হেবা করে দেন। শাহনওয়াজ ওই বাড়ির মালিক হিসেবে নামজারি সম্পন্ন করে নিয়মিত খাজনা পরিশোধ করে আসছিলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর হওয়ার পর তুরিন আফরোজ ক্ষমতার অপব্যবহার করে মা ও ভাইকে বাড়ি থেকে বের করে দেন। পরবর্তী সময়ে নিজে মালিকানা দাবি করে ঢাকার আদালতে মামলা দায়ের করেন এবং প্রভাব খাটিয়ে আদালতের মাধ্যমে স্থিতি অবস্থা বজায় রাখার আদেশ নেন।
শাহনওয়াজ আহমেদ শিশির জানান, ২০২৫ সালের ৫ মে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ওই স্থিতি অবস্থার আদেশ বাতিল করেন। আদালতের আদেশের পর তারা ওই বাড়িতে প্রবেশ করতে পারলেও, তাদের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে মাত্র ৮ ফুট বাই ৮ ফুটের একটি কক্ষ। অভিযোগ অনুযায়ী, সেখানে তাদের গৃহকর্মী ও দারোয়ানদের নিয়ে অবরুদ্ধ অবস্থায় থাকতে হচ্ছে। সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি চালিয়ে তাদের ওপর মানসিক নিপীড়ন চালানো হচ্ছে বলে দাবি করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয় যে, কারাবন্দি তুরিন আফরোজ কারাগার থেকেই পুরো বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ করছেন এবং নিজের ১৯ বছর বয়সী কন্যাকে রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত স্বার্থে ব্যবহার করছেন। বাড়িটি বর্তমানে ‘কোচ আপ ইন্টারন্যাশনাল’ নামের একটি কোচিং সেন্টারকে ভাড়া দেওয়া হয়েছে, যার মাধ্যমে তুরিন আফরোজ বাড়িটির দখল বজায় রেখেছেন। এছাড়া তার অনুসারী একটি চক্র ভয়ভীতি দেখাচ্ছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
শাহনওয়াজ উল্লেখ করেন, বিগত সরকারের আমলে তাকে ‘বিএনপি-জামায়াত’ এবং তার অসুস্থ মাকে ‘জামায়াতের রোকন’ ট্যাগ দিয়ে অধিকারবঞ্চিত করা হয়েছিল। এমনকি বর্তমানে তার বৃদ্ধা মা স্কয়ার হাসপাতালে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে চিকিৎসাধীন থাকা সত্ত্বেও তুরিন আফরোজ ও তার অনুসারীরা আদালতের রায় উপেক্ষা করে ষড়যন্ত্র অব্যাহত রেখেছেন বলে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়। এর আগে জোরপূর্বক উচ্ছেদ, চুরি ও অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে দায়ের করা ফৌজদারি মামলা এবং দেওয়ানি মামলার শুনানি অজ্ঞাত কারণে বারবার পিছিয়ে দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।





