প্রকাশ : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯: ৩৯। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত উপ-মহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত ডিআইজি) প্রলয় কুমার জোয়ারদারের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে। সংস্থার অনুসন্ধানে তার নিজের নামে ৯২ লাখ ১৪ হাজার ৮৭২ টাকার এবং তার প্রয়াত স্ত্রী বিপ্লবী রানীর নামে ৩৫ লাখ ৫৬ হাজার ৭৩৪ টাকার অবৈধ সম্পদের তথ্য উঠে এসেছে। এই বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদের হিসাব চেয়ে প্রলয় কুমারের বিরুদ্ধে সম্পদ বিবরণী দাখিলের নোটিশ জারির অনুমোদন দিয়েছে দুদক।
বুধবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুদকের সহকারী পরিচালক (জনসংযোগ) তানজির আহমেদ। তিনি জানান, দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৬(১) ধারা অনুযায়ী এই নোটিশ জারির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রলয় কুমারের বৈধ আয়ের উৎস এবং অর্জিত সম্পদের হিসাব যাচাই করা হবে।
দুদকের অভিযোগ অনুযায়ী, পুলিশের সাবেক এই কর্মকর্তা চাঁদাবাজি ও চোরাচালানের মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করেছেন। এসব অবৈধ অর্থ ব্যবহার করে তিনি দেশে ও বিদেশে আবাসিক সম্পদ গড়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তার বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের অভিযোগও খতিয়ে দেখছে সংস্থাটি। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর প্রলয় কুমারের বিদেশে সম্পদের বিষয়টি আলোচনায় আসে। এক আইনজীবী তার বিরুদ্ধে চার দেশে ছয়টি বাড়ি থাকার অভিযোগ তুলে অনুসন্ধান চেয়ে আবেদন করেছিলেন। তবে দুদক স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, সম্পদ বিবরণী দাখিলের এই আদেশ অভিযোগের চূড়ান্ত প্রমাণ নয়; পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ায় এসব তথ্যের সত্যতা যাচাই করা হবে।
গণঅভ্যুত্থানের পর থেকেই প্রলয় কুমার জোয়ারদার আত্মগোপনে রয়েছেন। পুলিশের একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে যে তিনি বর্তমানে ভারতে পালিয়ে গেছেন। তার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মামলাসহ বিভিন্ন থানায় একাধিক হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং তার নামে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে।





