প্রবীণদের সুরক্ষায় বহুমুখী কর্মপরিকল্পনা নিয়েছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

Published: September 30, 2026, 1:46 pm

আসন্ন ১লা অক্টোবর আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস উপলক্ষ্যে দেশের সকল প্রবীণ নাগরিকের প্রতি আন্তরিক শ্রদ্ধা ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বার্তার মাধ্যমে তিনি এ শুভেচ্ছা জানান। একই সঙ্গে তিনি ৩৬তম আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস, ২০২৬-এর সার্বিক সফলতা কামনা করেছেন।

প্রধানমন্ত্রী তার বার্তায় উল্লেখ করেন যে, বর্তমান সরকার প্রবীণদের স্বার্থ রক্ষায় অত্যন্ত সচেতন ও সতর্ক। একটি মানবিক ও কল্যাণমূলক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে প্রবীণ নাগরিকদের সামাজিক নিরাপত্তা, আর্থিক সুরক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করতে সরকার বহুমুখী কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। তিনি বলেন, এমন একটি রাষ্ট্র গড়ে তুলতে চাই যেখানে তরুণ ও প্রবীণ নির্বিশেষে প্রতিটি মানুষ তাদের সর্বোচ্চ সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে সম্মানের সাথে বেঁচে থাকতে পারে।

সরকারের গৃহীত উদ্যোগগুলোর মধ্যে রয়েছে জীবনচক্রের প্রতিটি পর্যায়ে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান, বয়স্ক ভাতার পরিমাণ বৃদ্ধি এবং উপকারভোগীর সংখ্যা সম্প্রসারণ। এছাড়া, নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী ‘ফ্যামিলি কার্ড’-এর মাধ্যমে আর্থিক সহায়তা প্রদান এবং প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার পরিধি বাড়ানোর কাজ চলমান রয়েছে। প্রবীণদের অবহেলা না করে তাঁদের সুস্বাস্থ্য বজায় রাখা এবং সামাজিক সুরক্ষা কাঠামোর সাথে যুক্ত করার বিষয়ে সরকার নিরন্তর কাজ করে যাচ্ছে বলে তিনি জানান।

তারেক রহমান বলেন, প্রবীণরাই আমাদের পরিবার ও সমাজের ভিত্তি। তাঁদের ত্যাগ, অভিজ্ঞতা ও প্রজ্ঞার ওপর দাঁড়িয়েই আজকের বাংলাদেশ। তাই একটি ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক দেশ গড়তে প্রবীণদের প্রতি যত্নশীল হওয়া অপরিহার্য। পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র—এই তিন স্তরেই তাঁদের প্রতি সম্মান ও দায়িত্বশীলতার চর্চা থাকা জরুরি।

এবারের প্রবীণ দিবসের প্রতিপাদ্য হলো “দীর্ঘায়ুর যুগ: দীর্ঘ জীবনের জন্য ব্যবস্থা পুনর্বিবেচনা”। প্রধানমন্ত্রী বলেন, চিকিৎসাবিজ্ঞানের উন্নতি ও সচেতনতা বৃদ্ধির ফলে মানুষের গড় আয়ু বাড়ছে, যা নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে। তবে একই সাথে দীর্ঘ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য ও সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থাগুলোকে সময়োপযোগী করার প্রয়োজনীয়তাও বাড়ছে। সরকার প্রবীণদের স্বার্থে সব ধরণের পদক্ষেপ গ্রহণ করবে, তবে আমাদের ধর্মীয়, সামাজিক ও পারিবারিক মূল্যবোধের চর্চাই প্রবীণদের মর্যাদা সুরক্ষায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Alokito Bangladesh