যুক্তরাষ্ট্র সফরে তারেক রহমানের অর্জন ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের নতুন সমীকরণ

Published: September 26, 2026, 1:24 pm

প্রকাশ : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯: ১৭। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর তারেক রহমানের প্রথম যুক্তরাষ্ট্র সফর ও জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে অংশগ্রহণ নিয়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম হয়েছে। নিউইয়র্কে অবস্থানকালে তার সফরসূচির মধ্যে ছিল জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের মূল অধিবেশনসহ ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য প্রদান, ৩০টি আন্তর্জাতিক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ এবং ১১টি দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিনের দাবি অনুযায়ী, এই সফরে বাংলাদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

সফরের উল্লেখযোগ্য দিকগুলোর মধ্যে অন্যতম ছিল বোয়িং কোম্পানির সঙ্গে ১১টি বিমান কেনার চুক্তি এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা বিষয়ে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর। যদিও এই দুটি চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নিজে উপস্থিত ছিলেন না, তবুও এগুলো নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা চলছে। সমালোচকদের মতে, সরকার গঠনের আগেই যুক্তরাষ্ট্র এ বিষয়ে চাপ তৈরি করেছিল, যদিও সরকারের পক্ষ থেকে সেই দাবি বরাবরই প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। এর আগে চলতি বছরের ৩০ এপ্রিল বোয়িংয়ের সঙ্গে ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি হয়েছিল, যা বর্তমানে অর্থনৈতিক চাপের মুখে নতুন করে সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

পারমাণবিক সমঝোতা স্মারকটি স্বাক্ষরিত হয়েছে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর টেলিযোগাযোগ ও আইসিটি বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসাদ এবং যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, জ্বালানি ও পরিবেশবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি জ্যাকব হেলবার্গের মধ্যে। এই সমঝোতার গুরুত্ব অপরিসীম কারণ রূপপুরে রাশিয়ার সহায়তায় দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে।

জাতিসংঘের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে পাঁচ দফা প্রস্তাব পেশ করেন এবং এই সংকট পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে বিশ্ব সম্প্রদায়কে সতর্ক করেন। এছাড়া তিনি জলবায়ু ন্যায়বিচার বা ক্লাইমেট জাস্টিস ইস্যু নিয়েও জোরালো বক্তব্য রাখেন। সাবেক রাষ্ট্রদূত হুমায়ুন কবিরের মতে, প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক উভয় শ্রোতাদেরই গুরুত্ব দিয়েছেন, যা তার সরকারের জন্য ইতিবাচক।

সফরের সময় নিউইয়র্কে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা প্রেস ব্রিফিংয়ে শেখ হাসিনা ও ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক নিয়ে মন্তব্য করেন। ওই কর্মকর্তা জানান, যুক্তরাষ্ট্র এখনো হাসিনার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো অবস্থান নেয়নি, তবে তারা আশা করছে ভারত ও বাংলাদেশ আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে পৌঁছাবে।

সফরের শেষ সংবাদ সম্মেলনে উপদেষ্টা মাহদী আমিন জানান, কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্স, সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপ-প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে জনশক্তি রপ্তানি, জ্বালানি নিরাপত্তা ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এছাড়া বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট, জাতিসংঘ মহাসচিবসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গের সঙ্গেও প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক হয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সরকারপ্রধান হিসেবে তারেক রহমানের এই প্রথম বিদেশ সফর বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের যোগাযোগ ও সম্পর্ক বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh