যুদ্ধের ভয়াবহতা পেছনে ফেলে জর্ডানের আজরাক শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নেওয়া দুই সিরীয় তরুণ এশিয়ান গেমসের মঞ্চে নিজেদের প্রতিভার স্বাক্ষর রাখতে প্রস্তুত। মাহমুদ জাসেম মুহাম্মদ ও তালা হাসান হুনাইদি নামের এই দুই ক্রীড়াবিদ এবার মহাদেশের সেরা অ্যাথলেটদের সঙ্গে তায়কোয়ান্দো ইভেন্টে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। অলিম্পিক কাউন্সিল অব এশিয়া (ওসিএ) এশিয়ান গেমসের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একটি নিবেদিত শরণার্থী দল পাঠিয়েছে, যার অংশ হিসেবে তারা এই সুযোগ পেয়েছেন।
২৪ বছর বয়সী মুহাম্মদ পুরুষদের ৮০ কেজির নিচের কিয়োরুগি ইভেন্টে লড়বেন। প্রতিযোগিতার মঞ্চে নামার আগে তিনি নিজের সংগ্রামের কথা তুলে ধরে বলেন, প্রতিটি লড়াইয়ের সঙ্গেই তার জীবনের গল্প জড়িয়ে আছে। তিনি জানান, যুদ্ধের কারণে তারা স্বেচ্ছায় দেশ ছাড়েননি; কঠিন পরিস্থিতি ও জীবন বাঁচানোর তাগিদেই তাদের নতুন করে জীবন শুরু করতে হয়েছে। তবে কেবল অংশগ্রহণই তাদের লক্ষ্য নয়, কঠোর প্রস্তুতির মাধ্যমে তারা ভালো কিছু অর্জনের প্রত্যাশা করছেন।
অন্যদিকে, ১৮ বছর বয়সী হুনাইদি তার স্বপ্ন পূরণের এই সুযোগের জন্য আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি, ওসিএ এবং ওয়ার্ল্ড তায়কোয়ান্দোর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। খেলাধুলা কীভাবে তার জীবন বদলে দিয়েছে সে সম্পর্কে তিনি বলেন, এই পথ তাকে নতুন স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষা দেখিয়েছে। প্রতিকূল পরিস্থিতি যে জয় করা সম্ভব এবং অসম্ভব বলে কিছু নেই, তা তিনি খেলাধুলার মাধ্যমেই শিখেছেন।
ওসিএ অ্যাথলেটস কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান শিবা কেশাভান এই দুই অ্যাথলেটকে আদর্শ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, এশিয়ান গেমসের মতো বড় মঞ্চে মহাদেশের শীর্ষ ক্রীড়াবিদদের মুখোমুখি হওয়া তাদের জন্য আবেগঘন অভিজ্ঞতা হতে পারে। কেশাভানের মতে, ব্যক্তিগত লক্ষ্যের পাশাপাশি এই বৃহত্তর ক্রীড়া সম্প্রদায়ের অংশ হওয়া তাদের জন্য বড় অর্জন। তিনি দুই শরণার্থী ক্রীড়াবিদকে কোনো বাড়তি চাপ না নিয়ে নিজেদের সেরাটা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।





