ভোটের মধ্যেই ইউক্রেনের হামলা, রাশিয়ায় পুতিনের দলের বড় জয়

Published: September 21, 2026, 10:53 am

ইউক্রেনের উপর্যুপরি ড্রোন ও সাইবার হামলার মধ্যেই রাশিয়ার সাধারণ নির্বাচনে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জয় পেয়েছে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের দল ইউনাইটেড রাশিয়া পার্টি। ২০২২ সালে ইউক্রেনে মস্কোর সামরিক অভিযান শুরুর পর এটিই ছিল দেশটিতে প্রথম পার্লামেন্ট নির্বাচন। আজ সোমবার ভোরে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে নির্বাচনের এই ফলাফল ঘোষণা করা হয়।

নির্বাচন কমিশনের বরাত দিয়ে রুশ সংবাদ সংস্থাগুলো জানিয়েছে, ৭১ শতাংশের বেশি ভোট গণনা শেষে ক্ষমতাসীন ইউনাইটেড রাশিয়া পার্টি ৫৭ দশমিক ৫ শতাংশ ভোট পেয়েছে। এছাড়া কমিউনিস্ট পার্টি ১৪ শতাংশ এবং এলডিপিআর ৮ দশমিক ৭ শতাংশ ভোট পেয়েছে। এর আগে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা তাসের পূর্বাভাসে বলা হয়েছিল, পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ স্টেট ডুমার ৪৫০টি আসনের মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখার পথে রয়েছে ক্ষমতাসীন দল। এর ফলে তারা সংবিধান সংশোধন করার ক্ষমতাও ধরে রাখতে পারবে।

এবারের নির্বাচনে ইউক্রেন যুদ্ধের বিরোধিতা করা কোনো দলকে অংশ নিতে দেওয়া হয়নি। নির্বাচনের কয়েক সপ্তাহ আগে রাশিয়ার সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে যুদ্ধবিরোধী দল ‘ইয়াবলোকো পার্টি’র প্রতীক ব্যালট থেকে বাদ দেওয়া হয়। এছাড়া রাশিয়ার দখল ও সংযুক্ত করা ইউক্রেনের ভূখণ্ডগুলোতেও এবার ভোট গ্রহণ করা হয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের সবচেয়ে প্রাণঘাতী সংঘাত হিসেবে পরিচিত এই যুদ্ধ এখন চতুর্থ বছর শেষ করে পঞ্চম বছরে গড়িয়েছে এবং তা শিগগিরই শেষ হওয়ার কোনো লক্ষণ নেই। ক্রেমলিন এই নির্বাচনের ফলাফলকে পুতিনের নীতি এবং চলমান যুদ্ধের প্রতি জনগণের সমর্থনের প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে。

ভোটের তিন দিনজুড়েই ইউক্রেন রাশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে ধারাবাহিক হামলা চালিয়েছে। বিশেষ করে গতকাল রোববার ভোট গ্রহণের শেষ দিনে মস্কো ও এর আশপাশের এলাকায় দফায় দফায় ড্রোন হামলা চালানো হয়। মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন জানান, যুদ্ধ শুরুর পর মস্কোয় এটিই ছিল ইউক্রেনের সবচেয়ে বড় হামলা। হামলায় প্রায় ১ হাজার ৬০০টি ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে, যার মধ্যে ৪৫০টি সরাসরি রাজধানী মস্কোকে লক্ষ্য করে চালানো হয়। মস্কো অঞ্চলের গভর্নর আন্দ্রেই ভোরোবিয়ভ জানিয়েছেন, দুটি পৃথক স্থানে হামলায় ৪৪ বছর বয়সী এক নারী ও এক বয়স্ক পুরুষ নিহত হয়েছেন এবং একটি তেল শোধনাগারে আগুন ধরে যায়।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এই হামলার প্রশংসা করে বলেন, মস্কো অঞ্চলে দূরপাল্লার এই পাল্টা হামলার অত্যন্ত উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়েছে। অন্যদিকে, রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ইউক্রেনের বিরুদ্ধে ‘রুশ নাগরিকদের গণতান্ত্রিক ইচ্ছাকে ব্যাহত করার’ চেষ্টার অভিযোগ এনেছে। তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, রাশিয়ার বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলার জবাবে কিয়েভের সামরিক লক্ষ্যবস্তুগুলোতে রুশ বাহিনী আরও তীব্র ও নিখুঁত হামলা চালাবে।

এরই মধ্যে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় আজ জানিয়েছে, তাদের বাহিনী ইউক্রেনের একাধিক সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে পাল্টা হামলা চালিয়েছে। এর মধ্যে সামরিক কাজে ব্যবহৃত দুটি পণ্যবাহী জাহাজ, একটি গ্যাস বিতরণ কেন্দ্র, ইজমাইল বন্দরের অবকাঠামো এবং কিয়েভ অঞ্চলের বিডিইউ লজিস্টিকস কেন্দ্র রয়েছে।

নির্বাচন চলাকালে রাশিয়ার নির্বাচন ব্যবস্থায় বড় ধরনের সাইবার হামলার ঘটনাও ঘটেছে। কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের চেয়ারম্যান এলা পামফিলোভা জানান, শনিবার সাইবার হামলা সত্ত্বেও তিন দিনব্যাপী ভোট গ্রহণ নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়েছে এবং রোববার বেলা গড়ানোর আগেই ৪৫ শতাংশের বেশি ভোট পড়েছে। তিনি নির্দিষ্ট করে কাউকে দায়ী না করলেও অত্যন্ত দক্ষ ও সুসমন্বিত কোনো গোষ্ঠী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সরঞ্জাম ব্যবহার করে এই হামলা চালিয়ে থাকতে পারে বলে মন্তব্য করেন।

এদিকে, দুই দেশের এই সংঘাত ও পাল্টাপাল্টি হামলার মধ্যেই ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। ট্রাম্প কিয়েভকে রাশিয়ার তেল শোধনাগারগুলোতে হামলা বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন বলে জানা গেছে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo