রাজশাহীতে আমন ধানের বাম্পার ফলনের আশা, শুরু আগাম জাতের কাটা

Published: October 31, 2026, 2:54 am

রাজশাহীর মাঠজুড়ে এখন পাকা আমন ধানের সোনালি রঙের ছটা। বাতাসে দুলছে ধানগাছ, আবার কোথাও চলছে আগাম জাতের ধান কাটা, মাড়াই ও ঘরে তোলার কর্মযজ্ঞ। বিশেষ করে তানোর ও গোদাগাড়ী উপজেলার কৃষকেরা এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন। প্রতিকূলতা কাটিয়ে অনুকূল আবহাওয়ার সৃষ্টি হওয়ায় চলতি মৌসুমে আমনের বাম্পার ফলনের আশা করছেন এ অঞ্চলের চাষিরা।

গত বুধবার তানোর, গোদাগাড়ী ও পবা উপজেলার বিভিন্ন এলাকা সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, আগাম রোপণ করা নিচু জমিগুলোর ধান ইতোমধ্যে পেকে গেছে। কাস্তে হাতে মাঠে নেমে পড়েছেন কৃষকেরা। ধান কেটে আঁটি বাঁধা, জমিতে স্তূপ করা কিংবা মাড়াইয়ের প্রস্তুতিতে গ্রামজুড়ে এক ধরনের উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে। কাঙ্ক্ষিত ফলন পাওয়ার পাশাপাশি ধান বিক্রিতে ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত হবে—এমনটাই প্রত্যাশা করছেন তারা।

তানোর উপজেলার পাঁচন্দর ইউনিয়নের কৃষক আব্দুল জলিল জানান, মৌসুমের শুরুর দিকে বৃষ্টি কম হওয়ায় ধান নিয়ে দুশ্চিন্তা ছিল। তবে পরবর্তী সময়ে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ধানের গাছ ও শীষের গঠন বেশ ভালো হয়েছে। রোগবালাই ও পোকা-মাকড়ের আক্রমণ তুলনামূলক কম থাকায় এবার ভালো ফলনের ব্যাপারে তিনি আশাবাদী। অন্যদিকে পবা উপজেলার কৃষক রজব আলী বলেন, ধান দেখে ভালো ফলনের আশাই জাগছে। এতে পরিবারের সারা বছরের খাদ্যের সংস্থান হবে এবং অতিরিক্ত ধান বিক্রি করে অর্থও আয় করা সম্ভব হবে। তবে উৎপাদন খরচের অনুপাতে বাজারে উপযুক্ত দাম পাওয়া যাবে কি না, তা নিয়ে তাঁর কিছুটা উদ্বেগ রয়েছে।

গোদাগাড়ী উপজেলার মাঠগুলোতেও আগাম জাতের আমন ধান কাটা শুরু হয়ে গেছে। উপজেলার কৃষক মোসলেম উদ্দিন জানান, এখন পর্যন্ত আবহাওয়াজনিত কোনো ক্ষতি হয়নি। কোনো বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ না ঘটলে বিঘাপ্রতি বেশ ভালো ফলন মিলবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।

ধান কাটার পর একই জমি ফেলে না রেখে রবি শস্য আবাদের প্রস্তুতি নিচ্ছেন তানোর, মোহনপুর ও পবা উপজেলার কৃষকেরা। আগাম ধান কাটা শেষ হলে দ্রুত জমি তৈরি করে আলু, সরিষা ও পেঁয়াজসহ বিভিন্ন ফসলের আবাদ শুরু করবেন তারা। এতে একই জমিতে পর পর একাধিক ফসল ফলিয়ে উৎপাদন ও আয় দুই-ই বাড়ানো সম্ভব হবে বলে মনে করছেন চাষিরা।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, রাজশাহীর প্রদত্ত তথ্যমতে, চলতি আমন মৌসুমে জেলা জুড়ে মোট ৮৩ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে, যা থেকে তিন লাখ ১৪ হাজার ৩৩৬ টন ধান উৎপাদিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর মধ্যে গোদাগাড়ী উপজেলায় সবচেয়ে বেশি অর্থাৎ ২৩ হাজার ৭৬২ হেক্টর এবং তানোর উপজেলায় ২১ হাজার ৯৮০ হেক্টর জমিতে আমন চাষ করা হয়েছে। এই দুটি উপজেলায় আমনের আবাদ সবচেয়ে বেশি হওয়ায় মোট উৎপাদনেও তারা বড় ভূমিকা রাখবে।

কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, বীজ, রোপণের সময় ও পরিচর্যার পাশাপাশি আবহাওয়া আমন ফলনে বড় ভূমিকা রাখে। এবার আবহাওয়া অনুকূলে থাকা এবং পোকা-মাকড়ের প্রাদুর্ভাব কম থাকায় ধানের ভালো গঠন লক্ষ্য করা গেছে। তবে পুরো ধান মাড়াই করে ঘরে না তোলা পর্যন্ত ঝড়-বৃষ্টির মতো প্রাকৃতিক দূর্যোগের ভয় থেকেই যায়।

তানোর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল্লাহ আহমেদ জানিয়েছেন, তানোরে চলতি মৌসুমে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়েছে এবং মাঠের সার্বিক অবস্থা অত্যন্ত সন্তোষজনক। কৃষকদের রোগবালাই মোকাবিলায় নিয়মিত কারিগরি পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। একই কথা জানিয়ে রাজশাহীর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (শস্য) মিতা সরকার বলেন, মাঠপর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তারা কৃষকদের সব ধরনের সহায়তা দিচ্ছেন। শেষ পর্যন্ত বড় কোনো দুর্যোগ না এলে এবার ফলন বেশ ভালো হবে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh