ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার গালুয়া ইউনিয়ন বিভক্তির প্রস্তাব নিয়ে স্থানীয় দুটি পক্ষের পাল্টাপাল্টি মানববন্ধন কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে গালুয়া বাজার ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করেছে উপজেলা প্রশাসন। বিশৃঙ্খলা এড়াতে ও সার্বিক জননিরাপত্তা বজায় রাখতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট রিফাত আরা মৌরীর স্বাক্ষরিত আদেশে জানানো হয়, শুক্রবার দুপুর দুইটা থেকে শুরু হওয়া এই নিষেধাজ্ঞা শনিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। জারিকৃত আদেশ অনুযায়ী গালুয়া বাজার ও তার সংলগ্ন সীমানায় সমাবেশের উদ্দেশ্যে গমন, মাইক বা শব্দবর্ধক যন্ত্রের ব্যবহার এবং পাঁচ বা তার বেশি ব্যক্তির একসঙ্গে চলাফেরা, সভা, মিছিল ও জমায়েত সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঝালকাঠি-১ (রাজাপুর-কাঁঠালিয়া) আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম জামালের পাঠানো একটি ডিও লেটারে রাজাপুরকে পৌরসভায় রূপান্তর এবং গালুয়া ইউনিয়নকে বিভক্ত করে দুটি পৃথক ইউনিয়ন গড়ার প্রস্তাব ওঠে। এই প্রস্তাবের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই স্থানীয় বাসিন্দারা পক্ষে ও বিপক্ষে দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েন।
বর্তমান ইউনিয়নের অখণ্ডতা বজায় রাখার দাবিতে শুক্রবার বিকেল চারটায় গালুয়া বাজারে মানববন্ধনের ঘোষণা দেয় এক পক্ষ। তারা প্রচারিত প্রচারপত্রের মাধ্যমে ইউনিয়ন বিভাজনের উদ্যোগ বাতিল, প্রশাসনিক সেবার মান বাড়ানো, আইনশৃঙ্খলা সুরক্ষায় প্রয়োজনে নতুন পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন এবং গালুয়াকে একটি মডেল ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তোলার জোর দাবি জানান। অন্যদিকে, 'বৃহত্তর পুটিয়াখালীর সর্বস্তরের জনগণ'-এর ব্যানারে একই দিন বেলা তিনটায় গালুয়া ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের সামনে পৃথক মানববন্ধনের ডাক দেওয়া হয়, যার মূল দাবি ছিল বৃহত্তর পুটিয়াখালীকে ৭ নম্বর ইউনিয়ন হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনিক পদক্ষেপ সম্পর্কে রাজাপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. শামীম রেজা সজীব জানান, একই স্থানে বিপরীতমুখী দুটি পক্ষ কর্মসূচি ঘোষণা করায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতেই ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে, তবে নিয়মতান্ত্রিক মানববন্ধনে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো বাধা ছিল না। এলাকাটিতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন রাজাপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. ফিরোজ কামাল।





