কিস্তিতে কেনা অটোরিকশা চালাতে গিয়ে প্রাণ হারালেন মুয়াজ্জিন আবদুল হক

Published: October 24, 2026, 2:14 pm

ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলায় যাত্রীবেশে অটোরিকশায় উঠে চালককে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে অটোরিকশা ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার রাতে ফেনী-ছাগলনাইয়া আঞ্চলিক সড়কের উপজেলার বাংলাবাজার এলাকায় এ হামলার শিকার হন চালক আবদুল হক (৪৫)। পরে আজ শনিবার ভোরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। নিহত আবদুল হক ছাগলনাইয়া উপজেলার মহামায়া ইউনিয়নের মাটিয়াগোদা গ্রামের ওসমান হাওলাদারের ছেলে এবং পেশায় একজন মসজিদের মুয়াজ্জিন ছিলেন। সংসারে সচ্ছলতা ফেরাতে তিনি কিস্তিতে অটোরিকশা কিনে ভাড়ায় চালাতেন।

পুলিশ ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার রাতে চাঁদগাজী বাজার থেকে কয়েকজন যাত্রী আবদুল হকের অটোরিকশা ভাড়া করেন। তাঁরা বাংলাবাজার এলাকার নির্জন স্থানে পৌঁছালে পেছন থেকে চালকের মাথায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় আবদুল হক সড়কে পড়ে গেলে দুর্বৃত্তরা অটোরিকশাটি নিয়ে পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে ফেনী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে রাতে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

নিহতের বড় ছেলে মোহাম্মদ সিফাত হোসেন জানান, তাঁদের পরিবার অত্যন্ত দরিদ্র এবং ছোট একটি ঘর ছাড়া আর কোনো জায়গা-জমি নেই। সংসারের অভাব দূর করতে মাত্র এক মাস আগে বাবা কিস্তিতে অটোরিকশাটি কিনেছিলেন। একদিকে ঋণের বোঝা, অন্যদিকে বাবাকে হারিয়ে তাঁরা এখন নিঃস্ব। মহামায়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য মুন্সী আবদুল কাইয়ুম জানান, আবদুল হক অত্যন্ত নিরীহ প্রকৃতির মানুষ ছিলেন, যিনি মুয়াজ্জিনগিরির পাশাপাশি সবজি বিক্রি ও অটোরিকশা চালিয়ে সংসার চালাতেন। তিনি হত্যাকারীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

ছাগলনাইয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবু তাহের জানান, শুক্রবার রাতে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার হওয়া চালকের পকেটে থাকা জাতীয় পরিচয়পত্রের মাধ্যমে তাঁর পরিবারের সদস্যদের খবর দেওয়া হয়। অটোরিকশা ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যেই এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo