সৌদিতে হামলা ও সমুদ্রপথের ঝুঁকিতে বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় লাফ

Published: October 24, 2026, 3:28 pm

সৌদি আরবে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের হামলার প্রেক্ষাপটে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেল উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থা নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এর সরাসরি প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম একলাফে বেড়ে প্রায় ছয় মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, গত শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৩.৫৫ ডলার বা ৩.১৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১১৬.৭২ ডলারে ঠেকেছে। গত ২৯ এপ্রিলের পর ব্রেন্ট ক্রুডের ক্ষেত্রে এটিই সর্বোচ্চ দর। একই দিনে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৩.৮০ ডলার বা ৩.৮ শতাংশ বেড়ে দাঁড়ায় ১০৩.২৭ ডলারে। এতে সাপ্তাহিক হিসাবে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম বেড়েছে মোট ৬ শতাংশ এবং ডব্লিউটিআইয়ের দাম বেড়েছে ২.৩ শতাংশ।

বাজার বিশ্লেষকরা জানাচ্ছেন, সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠী ধারাবাহিক আক্রমণ চালিয়ে আসছে। এতে গোটা মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি খাত ও আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথের নিরাপত্তা নিয়ে ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি ‘সৌদি আরামকো’ গত বৃহস্পতিবার পারস্য উপসাগরের তীরবর্তী ধাহরানে অবস্থিত তাদের সদর দফতর খালি করার নির্দেশনা জারি করে। শহরটি আরামকোর প্রশাসনিক কার্যাবলীর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র।

একই সঙ্গে আঞ্চলিক জলসীমায় নতুন করে নিরাপত্তা সংকট দেখা দিয়েছে। গত শুক্রবার সংযুক্ত আরব আমিরাতের উম্ম আল কুয়াইন উপকূলে একটি অয়েল ট্যাংকার থেকে তেল ছড়িয়ে পড়ার খবর নিশ্চিত করেছে দেশটির জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়। অন্যদিকে, বৈশ্বিক জ্বালানি পরিবহনে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল হরমুজ প্রণালি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাতের জের ধরে প্রায় বন্ধ করে রেখেছে ইরান। পাশাপাশি হুথিদের সঙ্গে সৌদি-সমর্থিত বাহিনীর তীব্র লড়াইয়ের কারণে বাব আল-মান্দেব প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলেও মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

রয়টার্স উল্লেখ করেছে, চলতি অক্টোবর মাসে হরমুজ প্রণালিসহ আশেপাশের আন্তর্জাতিক জলপথে বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর একের পর এক হামলা ও নিরাপত্তাজনিত ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে বাজারে বিদ্যমান সরবরাহের ঘাটতির পাশাপাশি ভবিষ্যতে জ্বালানি সরবরাহ পুরোপুরি ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কাই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দর বৃদ্ধির পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে কাজ করছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৩ দশমিক ৫৫ ডলার বা ৩ দশমিক ১৪ শতাংশ বেড়ে ১১৬ দশমিক ৭২ ডলারে দাঁড়ায়। ২৯ এপ্রিলের পর এটিই ব্রেন্টের সর্বোচ্চ মূল্য।

একই দিনে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ৩ দশমিক ৮০ ডলার বা ৩ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৩ দশমিক ২৭ ডলারে পৌঁছায়।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Alokito Bangladesh