দিল্লির জামিয়া মিলিয়ায় শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ও সংঘর্ষ, অনলাইন ক্লাসের সিদ্ধান্ত

Published: October 24, 2026, 10:52 am

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থী ও নিরাপত্তারক্ষীদের মধ্যে সংঘর্ষ এবং তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এবং ক্যাম্পাসের সার্বিক অবনতির মুখে কর্তৃপক্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ক্লাস অনলাইনে নেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) ক্যাম্পাস প্রাঙ্গণে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের তাঁবু নিরাপত্তারক্ষীরা সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নিলে সংঘাতের সূত্রপাত হয়। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছাত্র সংসদ পুনর্বহাল ও দ্রুত নির্বাচন আয়োজনের দাবিতে গত ১২ অক্টোবর থেকে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ ও অনশন কর্মসূচি চালিয়ে আসছিলেন। আন্দোলনকারীরা যে তাঁবুর নিচে অনশন করছিলেন, সেটি সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চালানো হলে পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

শিক্ষার্থীদের প্রধান দাবি হলো 'জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া স্টুডেন্টস ইউনিয়ন' (জেএমআইএসইউ) পুনরায় চালু করা এবং নির্বাচনের নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করা। ২০০৬ সালে ক্যাম্পাসে ব্যাপক সহিংসতা ও শিক্ষাকার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ছাত্র সংসদ বিলুপ্ত ঘোষণা করেছিল। এরপর থেকে দীর্ঘ সময় ধরে শিক্ষার্থীদের মনে এ নিয়ে ক্ষোভ জমছিল, যা সম্প্রতি আবার আন্দোলনে রূপ নেয়।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ক্যাম্পাসের নিরাপত্তারক্ষীরা তাদের সঙ্গে অত্যন্ত দুর্ব্যবহার করেছেন এবং জোরপূর্বক অবস্থানস্থল থেকে উচ্ছেদ করেছেন। একই সঙ্গে কমিউনিস্ট ছাত্র সংগঠন 'আইসা' অভিযোগ করেছে যে, কোনো ধরনের উস্কানি ছাড়াই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অনশনরত সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর দমন-পীড়ন চালিয়েছে।

অন্যদিকে, পরিস্থিতির অবনতির জন্য রাজনৈতিক ইন্ধনকে দায়ী করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়ার রেজিস্ট্রার অধ্যাপক মাহতাব আলম রিজভি অভিযোগ করে জানান, কংগ্রেসের দুই সংসদ সদস্য ইমরান প্রতাপগড়ি ও ইমরান মাসুদ ক্যাম্পাসে আসার পর পরিবেশ আরও ঘোলাটে হয়ে ওঠে। তিনি দাবি করেন, শুক্রবার ওই দুই সাংসদ দেয়াল টপকে ভেতরে প্রবেশ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ বিনষ্ট করেছেন। এ ঘটনায় দিল্লি পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগও দায়ের করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, শিক্ষার্থীদের দাবি ও চলমান অসন্তোষ পর্যালোচনার জন্য প্রশাসন আগেই সাত সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করেছিল। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করা, তাদের অভিযোগ খতিয়ে দেখা এবং ক্যাম্পাসে স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার উপায় সুপারিশ করাই ছিল ওই কমিটির মূল দায়িত্ব। তবে আন্দোলনকারীরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ছাত্র সংসদ পুনর্বহাল ও নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Alokito Bangladesh