উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষায় এআই ব্যবহারের দাবি

Published: October 3, 2026, 6:52 pm

ভোর হওয়ার আগেই উত্তর কোরিয়া সমুদ্র ও পাহাড়ের মধ্যবর্তী অঞ্চল থেকে একটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। দেশটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, এই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষায় তারা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করেছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী এর কয়েক ঘণ্টা আগে পূর্ব সাগরের দিকে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছিল। তাদের তথ্য অনুযায়ী, ক্ষেপণাস্ত্রটি ৭০০ কিলোমিটারের বেশি পথ অতিক্রম করেছে।

উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের বোন কিম ইয়ো জং পরবর্তীতে দাবি করেন, এটি ছিল একটি মধ্যপাল্লার কৌশলগত ক্ষেপণাস্ত্র। তার ভাষ্যমতে, ক্ষেপণাস্ত্রটি নিচু উচ্চতায় উড্ডয়নকালে নিজের গতিপথ পরিবর্তন করতে সক্ষম এবং এতে এআই প্রযুক্তি যুক্ত করা হয়েছে।

কিম ইয়ো জংয়ের দাবি, এই প্রযুক্তির কারণে ক্ষেপণাস্ত্রটির আঘাত এড়ানো অত্যন্ত কঠিন এবং এমন প্রযুক্তি বিশ্বের অন্য কোনো দেশের হাতে পৌঁছাতে অন্তত কয়েক বছর সময় লাগবে। তবে তিনি এর বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা দেননি।

এই দাবির সত্যতা নিয়ে অবশ্য প্রশ্ন তুলেছেন সিউলের সামরিক বিশ্লেষক হং সুং-পিও। তার মতে, আধুনিক সামরিক শক্তির দিক থেকে উত্তর কোরিয়া এখনও বিশ্বের শীর্ষ শক্তিগুলোর সমতুল্য নয়, তাই এই দাবিকে এখনই চূড়ান্ত সত্য হিসেবে মেনে নেওয়া ঠিক হবে না।

তবে তিনি স্বীকার করেছেন যে, শেষ পর্যায়ে গতিপথ পরিবর্তন করতে সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা সত্যিই একটি কঠিন চ্যালেঞ্জ।

বর্তমান বিশ্বে সামরিক অভিযানের কার্যকারিতা বাড়াতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের সঙ্গে এআই ব্যবহারের প্রবণতা বাড়ছে। লক্ষ্য শনাক্তকরণ এবং আঘাতের পথ নির্ধারণে প্রযুক্তির এই ব্যবহার ইউক্রেন ও ইরানের যুদ্ধেও দেখা গেছে।

কোরিয়া ইনস্টিটিউট ফর মিলিটারি অ্যাফেয়ার্সের গবেষক হংয়ের মতে, বিভিন্ন দেশই এখন সামরিক প্রযুক্তিতে এআই যুক্ত করছে, যার ধারাবাহিকতায় উত্তর কোরিয়াও একই পথে হাঁটছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান সামরিক সহযোগিতাও উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়াকে সহায়তার বিনিময়ে পিয়ংইয়ং প্রযুক্তিগত সহায়তা পাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে, যদিও এর প্রকৃত মাত্রা এখনও অস্পষ্ট।

এই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার আগে থেকেই দুই কোরিয়ার সীমান্তে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। গত মাসে ডিএমজেড এলাকায় পুঁতে রাখা মাইন বিস্ফোরণে দক্ষিণ কোরিয়ার তিন সেনা আহত হন।

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী কাং শিন-চুল জানান, সীমান্ত এলাকা আরও শক্তভাবে বন্ধ করতে উত্তর কোরিয়া এসব মাইন পুঁতেছিল। ২০২৪ সালে কিম জং উন দক্ষিণ কোরিয়াকে তাদের ‘প্রধান শত্রু’ ঘোষণা করার পর থেকেই সীমান্তে মাইন ও ট্যাংকবিরোধী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তৈরির কাজ বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে পিয়ংইয়ং এই বিস্ফোরণের দায় স্বীকার করেনি।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin