নোয়ডায় ৪৩ তলা থেকে লাফ দিয়ে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারের মৃত্যু

Published: October 5, 2026, 2:52 pm

ভারতের নোয়ডায় একটি বহুতল ভবনের ৪৩ তলা থেকে লাফ দিয়ে ২৮ বছর বয়সী এক সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। নিহত ওই যুবকের নাম সাম্ভব জৈন। তিনি হরিয়ানার মানেসরের বাসিন্দা ছিলেন এবং গুরুগ্রামের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। গত শনিবার নোয়ডার সেক্টর-৯৪ এলাকার সুপারনোভা স্পিরা ভবনে এই ঘটনা ঘটে। ঘটনার আগের দিনই তিনি ওই ভবনের একটি কক্ষ ভাড়া নিয়েছিলেন।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত ও প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, সাম্ভব পারিবারিক ও ব্যক্তিগত জীবনে তীব্র সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন। তার মৃত্যুর পেছনে পারিবারিক বিরোধ, সন্তানের চিকিৎসার বিপুল খরচ, ভরণপোষণের অর্থ পরিশোধ এবং ক্রমবর্ধমান ঋণের চাপকে মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। জানা গেছে, তার স্ত্রী ও সন্তানের ভরণপোষণ বাবদ আদালতের মাধ্যমে ১৫ লাখ রুপি নির্ধারণ করা হয়েছিল, যার মধ্যে প্রায় সাড়ে ৭ লাখ রুপি তিনি পরিশোধ করেছিলেন। এছাড়া তার সন্তান সময়ের আগেই জন্ম নেওয়ায় চিকিৎসার পেছনে ৩০ থেকে ৪০ লাখ রুপির বেশি ব্যয় করতে হয়েছিল, যা মেটাতে তিনি ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েন।

পুলিশ কর্মকর্তা সুমনেশ কুমার জানান, এ ধরনের নানাবিধ মানসিক চাপের পাশাপাশি নিজের শারীরিক গঠন নিয়েও সাম্ভব বেশ অস্বস্তিতে ছিলেন। তার ওজন প্রায় ১৪০ কেজি হওয়ায় স্বাস্থ্য নিয়ে তিনি উদ্বেগ বোধ করতেন। মৃত্যুর আগে তিনি নিজের মোবাইল ফোনে একটি ভিডিও রেকর্ড করেছিলেন, যেখানে তিনি ঋণের কারণে মানসিক চাপে থাকার কথা উল্লেখ করেন। ভিডিওতে তিনি তার এই সিদ্ধান্তের জন্য নিজেকেই দায়ী করেছেন এবং অন্য কাউকে দোষারোপ করেননি।

ঘটনার কয়েক দিন আগেই সাম্ভব তার বাবার সাথে কথা বলেছিলেন এবং ঋণের বোঝা ও নিজের মানসিক অবস্থার কথা জানিয়েছিলেন। ঘটনার পর পুলিশ তার মোবাইল ফোন জব্দ করেছে এবং শেষ সময়ের কল রেকর্ড ও চ্যাট পর্যালোচনা করছে। একইসঙ্গে ভবন ও আশেপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করা হচ্ছে। পুলিশ এই ঘটনায় প্ররোচনা বা অন্য কোনো সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Amader Shomoy