মিরপুরের পোষা প্রাণীর হাটে লাখ টাকার টিয়া ও বাহারি প্রাণীর মেলা

Published: October 2, 2026, 3:21 pm

রাজধানীর মিরপুরের শাহ আলী মাজার এলাকায় প্রতি শুক্রবার বসে পোষা প্রাণীর হাট। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলা এই হাটে ঢাকা ও বাইরের বিভিন্ন এলাকা থেকে ক্রেতা-বিক্রেতারা সমবেত হন। শাহ আলী বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের সামনের সড়কে কয়েক কিলোমিটারজুড়ে সারিবদ্ধ খাঁচায় সাজানো থাকে নানা জাতের প্রাণী ও পাখি। কোথাও চলছে পাখির দরদাম, আবার কোথাও ক্রেতারা বিড়াল হাতে নিয়ে দেখছেন। কেউ কেউ খাঁচার সামনে দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন বা ভিডিও করছেন।

হাটের অন্যতম আকর্ষণ পার্সিয়ান বিড়াল। মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা বিক্রেতা শাহ আলম ১৪ বছর ধরে এই ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। তিনি জানান, পার্সিয়ান জাতের বিড়ালটির বাবা-মা দুজনেই পার্সিয়ান হওয়ায় এবং ঘন লোম ও সুন্দর মুখের গঠনের কারণে তিনি এর দাম ৪০ হাজার টাকা চেয়েছেন। তবে হাটে বিড়ালের দামের ভিন্নতাও দেখা গেছে। বেসরকারি চাকরিজীবী মো. নাফিস উত্তরা থেকে এক বছর বয়সী এক জোড়া পার্সিয়ান বিড়াল এনেছেন ১০ হাজার টাকায় বিক্রির জন্য। এছাড়া মো. জুয়েল নামের আরেক বিক্রেতা তিন মাস বয়সী বিড়ালের বাচ্চার দাম হাঁকছেন ১৩ হাজার টাকা করে।

পাখির কলকাকলিতে মুখর থাকে হাটের বড় একটি অংশ। রঙিন টিয়া ও ককাটিয়েলের প্রতি ক্রেতাদের আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। মিরপুরের বাসিন্দা কাসফিয়া নওশিন ২০২১ সাল থেকে এই হাটে পাখি আনছেন। তিনি ১৯ বছর ধরে পাখি পালন করছেন। তাঁর কাছে থাকা ভায়োলেট রিংনেক টিয়ার এক জোড়ার দাম চাওয়া হচ্ছে ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা। এছাড়া সাদা রিংনেক টিয়ার দাম ৪০ হাজার এবং অন্য রঙেরগুলো ৩৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করেছেন তিনি। ককাটিয়েলের জোড়া বিক্রি হচ্ছে আড়াই থেকে ৪ হাজার টাকায়, আর বয়স ও রংভেদে লাভবার্ড পাওয়া যাচ্ছে ৩ থেকে ৫ হাজার টাকায়। শান্তা নামের আরেক বিক্রেতা তাঁর খামারের ককাটিয়েল নিয়ে হাটে এসেছেন, যা খেলা দেখিয়ে দর্শনার্থীদের নজর কাড়ছে।

পাখির পাশাপাশি হাটে কবুতর ও গৃহপালিত পাখিরও ব্যাপক সমাহার রয়েছে। ম্যাগপাইসহ বিভিন্ন জাতের কবুতর এখানে পাওয়া যাচ্ছে, যার এক জোড়ার দাম চাওয়া হচ্ছে ২ হাজার টাকা। এছাড়া চীনা হাঁসের বাচ্চা জোড়া ৩২০ টাকা, কোয়েল পাখির জোড়া ৯০ টাকা এবং ব্রয়লার মুরগির বাচ্চা প্রতিটি ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গাজীপুর থেকে আসা আবু হানিফ বিভিন্ন বাহারি মুরগি নিয়ে হাটে এসেছেন। জাপানি সিল্কি ও সেব্রাইট মুরগির দাম তিনি চাচ্ছেন ৪ হাজার টাকা করে, আর ফাইটার মুরগির দাম ৩ হাজার টাকা। তিনি জানান, লড়াকু স্বভাবের কারণে ফাইটার মুরগির বেশ সুনাম রয়েছে।

নারায়ণগঞ্জের বাসিন্দা মো. আরিফ ১০-১২ বছর ধরে এই হাটে লাভবার্ড ও বাজিগর পাখি নিয়ে আসছেন। যদিও পাখির ব্যবসার বড় একটি অংশ এখন অনলাইনে চলে, তবুও সরাসরি হাটে বিক্রির সুযোগটি তিনি হাতছাড়া করতে চান না। স্থানীয় ব্যবসায়ী মো. মিলন জানান, কয়েক বছর ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হাটের ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর থেকে দর্শনার্থীর সংখ্যা বেড়েছে, যদিও তাদের অনেকেই কেবল ভিডিও করতেই আসেন, প্রকৃত ক্রেতা নন।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo