৩ মাসের মধ্যে কিশোর গ্যাং নির্মূল করা হবে: চিফ হুইপ

Published: October 2, 2026, 2:38 pm

দেশে কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা আগামী তিন মাসের মধ্যে পুরোপুরি বন্ধ করা হবে বলে প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি। কিশোর গ্যাংয়ের পেছনে প্রভাবশালী মহলের সরাসরি মদদ রয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

শুক্রবার (২ অক্টোবর) রাজধানীর তেজগাঁওয়ের এফডিসিতে কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে করণীয় নিয়ে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি আয়োজিত এক ছায়া সংসদে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনটির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ।

চিফ হুইপ বলেন, আগামী তিন মাসের মধ্যে কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা সমূলে উপড়ে ফেলা হবে। কিশোররা হাতে অস্ত্র বা চাপাতি নিয়ে ঘুরে বেড়াবে না; তারা বই-খাতা হাতে স্কুলে যাবে, পড়াশোনা করবে এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও রোবটিক যুগের সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ত করবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, বর্তমানে যারা সমাজে মব ও সন্ত্রাস সৃষ্টি করছে, তাদের অনেকেই আগের শাসনামলেও একই ধরনের অপকর্মে লিপ্ত ছিল। তাদের চিহ্নিত করার প্রক্রিয়া চলছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপব্যবহার নিয়ে নূরুল ইসলাম মনি বলেন, ইউটিউব ও ফেসবুকে যারা অপপ্রচার চালাচ্ছে এবং অশ্লীল ভাষা ব্যবহার করছে, তাদের কঠোর নিয়ন্ত্রণে আনা হবে। জনগণের ম্যান্ডেট নিয়েই বর্তমান সরকার দায়িত্ব পালন করছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। এছাড়া, সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির পদত্যাগের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এই ঘটনা প্রমাণ করে অপরাধের বিরুদ্ধে সরকার কতটা কঠোর। অপরাধী নিজের ঘরের হলেও ছাড় দেওয়া হবে না। তবে দেশকে এগিয়ে নিতে সবার ঐক্যবদ্ধ প্রয়াস জরুরি।

অনুষ্ঠানের সভাপতি ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও মাদক কারবারিরা তাদের খোলস পরিবর্তন করে নতুন রাজনৈতিক পরিচয় ধারণ করে। প্রকৃতপক্ষে তাদের কোনো আদর্শিক রাজনৈতিক পরিচয় নেই। অতীতে যারা রাজনৈতিক আশ্রয়ে কিশোর গ্যাং চালাত, তাদের কেউ কেউ এখন ক্ষমতাসীনদের নাম ভাঙিয়ে অপরাধ করছে। অপরাধীর কোনো দল নেই এবং অপরাধের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনার কোনো সুযোগ নেই।

কিশোর গ্যাং কালচার রুখতে সামাজিক আন্দোলনের ওপর জোর দিয়ে হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, কেবল রাজনৈতিক সদিচ্ছা দিয়ে এটি সম্ভব নয়, সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। তিনি সব রাজনৈতিক দলকে এ বিষয়ে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান এবং যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনায় ঢালাওভাবে সরকারের ওপর দোষ চাপানোর ‘ব্লেম গেম’ পরিহারের পরামর্শ দেন। রাড্ডা ক্লিনিক ভাঙচুরের ঘটনায় বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির পদত্যাগের মাধ্যমে সরকার সন্ত্রাস ও দখলবাজির বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা দিয়েছে বলে তিনি মনে করেন।

‘কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে রাজনৈতিক সদিচ্ছার চেয়ে সামাজিক আন্দোলনই অধিক কার্যকর’ শীর্ষক এই ছায়া সংসদ বিতর্ক প্রতিযোগিতায় সেন্ট যোসেফ উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়কে হারিয়ে মিরপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ বিজয়ী হয়। প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ী ও বিজিত দলের হাতে ট্রফি, ক্রেস্ট ও সনদ তুলে দেওয়া হয়। প্রতিযোগিতায় বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন অধ্যাপক আবু মোহাম্মদ রইস, ড. এস এম মোর্শেদ, সাংবাদিক এম এম বাদশাহ্, মনির মিল্লাত ও জাফর ইকবাল।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin