সাঈদীর সাক্ষীর দাফন: কবর খুঁড়লেন পরিবারের নারী সদস্যরা

Published: October 25, 2026, 11:17 am

একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জামায়াতে ইসলামীর সাবেক নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দেওয়া বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারী (৮৭) শেষ পর্যন্ত নিজ বাড়িতে সমাহিত হয়েছেন। শনিবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে পিরোজপুর সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের চিতলিয়া গ্রামে তার দাফন সম্পন্ন হয়। মৃত্যুর প্রায় ১৭ ঘণ্টা পর মরদেহ নিয়ে দিনভর নানা টানাপোড়েনের পর পরিবারের নারী সদস্যদের খোঁড়া কবরে তাকে দাফন করা হয়। দাফনের সময় পুলিশি নিরাপত্তায় পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়স্বজন উপস্থিত ছিলেন।

মানিক পশারী শনিবার সকাল ১০টার দিকে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় তার জামাতার বাড়িতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। এরপর দুপুর ১২টার দিকে মরদেহ পিরোজপুর সদর উপজেলা পরিষদ চত্বরে পৌঁছালে স্থানীয়দের বাধার মুখে পড়ার অভিযোগ ওঠে। পরে পুলিশের সহায়তায় মরদেহ সেখান থেকে সরিয়ে পুলিশ লাইন্সে নেওয়া হয়। বিকেল ৫টার দিকে সেখানে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয় এবং মরদেহের নিরাপত্তায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

পরবর্তীতে রাত ১টার দিকে সদর থানা পুলিশের সহায়তায় মরদেহ বাড়িতে আনা হয়। মানিক পশারীর বোন জানান, টুঙ্গিপাড়া থেকে পিরোজপুরে মরদেহ আনার পর থেকেই প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়েছিল। একবার কবর খোঁড়া হলেও লোকজন তা ভরাট করে দিয়েছিল, পরে পুনরায় কবর খুঁড়তে হয়। তিনি অভিযোগ করেন, দাফনের সময় পরিবারের পুরুষ সদস্যরা এগিয়ে আসেননি, ফলে স্ত্রী, মেয়ে ও বোনসহ পরিবারের নারী সদস্যরাই কবর খোঁড়ার কাজটি করেন এবং পুলিশের সহায়তায় দাফনের ব্যবস্থা সম্পন্ন করেন।

পিরোজপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি শেখ আব্দুর রাজ্জাক মানিক পশারীকে ‘ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা’ দাবি করে গার্ড অব অনার দেওয়ার বিরোধিতা করেন। তিনি দাবি করেন রাষ্ট্রের দায়িত্ব ছিল তার গেজেট বাতিল করা, তবে দাফনে জামায়াতের পক্ষ থেকে কোনো বাধা দেওয়া হয়নি বলে তিনি জানিয়েছেন। পিরোজপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইফতেখারুল ইসলাম শামীম জানান, রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার দিয়ে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে। পিরোজপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শরিফুল ইসলাম নিশ্চিত করেছেন যে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই দাফন সম্পন্ন হয়েছে।

উল্লেখ্য, মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারী চিতলিয়া গ্রামের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ছিলেন। ২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর তিনি অসুস্থ অবস্থায় গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জামাতার বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিলেন এবং সেখানেই গত দুই মাস অসুস্থ থাকার পর তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin