সংখ্যালঘু-সংখ্যাগুরু নয়, সবার পরিচয় হবে বাংলাদেশি: মাহ্‌দী আমিন

Published: October 10, 2026, 4:32 am

শনিবার সকালে রাজধানীর বনানী মাঠে গুলশান-বনানী সার্বজনীন পূজা ফাউন্ডেশন আয়োজিত ‘মহালয়া ১৪৩৩’ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্‌দী আমিন বলেছেন, আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চাই যেখানে সংখ্যালঘু বা সংখ্যাগুরুর কোনো বিভাজন থাকবে না; বরং সবার পরিচয় হবে বাংলাদেশি। তিনি আরও বলেন, সরকার প্রতিটি নাগরিকের সমান অধিকার, মর্যাদা, নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর।

সকাল ৬টার দিকে অনুষ্ঠানে পৌঁছালে ফাউন্ডেশনের নেতৃবৃন্দ মাহ্‌দী আমিনকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেন। অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শারদীয় দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিক ক্ষণগণনা ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা শুরু হয়। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি বলেন, মহালয়া অশুভ শক্তির বিনাশ ও শুভ শক্তির বিজয়ের বার্তা বয়ে আনে। তিনি ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব বাধা পেছনে ফেলে সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠায় আধুনিক ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানান।

মাহ্‌দী আমিন উল্লেখ করেন যে, এই এলাকাটি প্রধানমন্ত্রীর সংসদীয় আসন। তিনি বলেন, আমরা বিশ্বাস করি সবাই মিলে এমন এক রাষ্ট্র পুনর্গঠন করব যেখানে ধর্ম, আদর্শ বা বিশ্বাসের ভিন্নতা ছাপিয়ে আমাদের একটাই পরিচয় থাকবে—আমরা সবাই বাংলাদেশি। তিনি আরও বলেন, ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে কাউকে বৈষম্যের শিকার হতে হবে না এবং প্রতিটি মানুষ স্বাধীনভাবে ও সমান মর্যাদায় দেশের অগ্রযাত্রায় অংশ নেবেন।

পূজা উদযাপনের প্রস্তুতি নিয়ে তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে এবার পূজামণ্ডপগুলোতে আর্থিক বরাদ্দ বৃদ্ধি করা হয়েছে এবং জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী সরকারি ছুটিও বাড়ানো হয়েছে। তিনি বলেন, শারদীয় দুর্গোৎসব আমাদের আবহমান ঐতিহ্য ও সম্প্রীতির বন্ধন। বিভেদ নয়, ভালোবাসা ও ন্যায়বিচারই হোক আমাদের মানবিক বাংলাদেশের চালিকাশক্তি।

সরকারের অগ্রাধিকার সম্পর্কে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার জনগণের স্বার্থ ও জাতীয় সার্বভৌমত্বকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়। সবার আগে বাংলাদেশ—এই মূলমন্ত্র নিয়ে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, ঢাকাস্থ ভারতীয় হাইকমিশনের ডেপুটি হাইকমিশনার পবন কুমার বাধে, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ভাইস চেয়ারম্যান তপন কান্তি মজুমদার এবং গুলশান-বনানী সার্বজনীন পূজা ফাউন্ডেশনের সভাপতি অলোক সাহা ও সাধারণ সম্পাদক বিনয় গোপাল রায়।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin