৩০ বছর পর কফিনবন্দি হয়ে দেশে ফিরছেন প্রবাসী খোকন

Published: October 9, 2026, 9:27 am

উন্নত জীবন এবং স্থায়ী আবাসের স্বপ্ন বুকে নিয়ে প্রায় ৩০ বছর আগে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমিয়েছিলেন কাজী আজিজুল হক খোকন (৫৮)। সুদীর্ঘ এই সময়ে তিনি দিন-রাত কঠোর পরিশ্রম করেছেন এবং নিজের আয়ের সিংহভাগ মাগুরা জেলা সদরের বগিয়া ইউনিয়নের পুকুরিয়া গ্রামে থাকা বাবা-মা ও ভাই-বোনদের কাছে পাঠিয়েছেন। তবে যে গ্রিনকার্ডের আশায় তিনি জীবনের দীর্ঘ সময় ব্যয় করেছেন, সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না। শেষ পর্যন্ত দেশে ফিরছেন তিনি, তবে জীবিত অবস্থায় নয়, কফিনবন্দি হয়ে।

গত ৩ অক্টোবর কর্মস্থলে যাওয়ার পথে চলন্ত বাসে হঠাৎ হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হন খোকন। বাসচালকের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ ও অ্যাম্বুলেন্স তাঁকে দ্রুত নিউইয়র্কের জ্যামাইকা হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। মৃত্যুর চার দিন পর, ৭ অক্টোবর তাঁর স্বজন ও পরিচিতরা মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হতে পারেন।

নিউইয়র্কের কুইন্সের রিচমন্ড হিলে বসবাস করতেন খোকন। তিনি জ্যাকসন হাইটসের 'অবকাশ বুক কর্নার' নামক প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন। প্রবাসে দীর্ঘ সময় কাটালেও তিনি বিয়ে করেননি এবং নিজের জন্য উল্লেখযোগ্য কোনো সঞ্চয়ও করতে পারেননি। জীবিকার পাশাপাশি তিনি প্রবাসী রাজনীতির সাথেও সক্রিয় ছিলেন। তিনি নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠন যুক্তরাষ্ট্র শ্রমিক লীগের নিউইয়র্ক স্টেট শাখার সাধারণ সম্পাদক এবং যুক্তরাষ্ট্র শাখার সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। প্রায় ছয় বছর আগে তিনি যুক্তরাষ্ট্র শ্রমিক লীগের সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

যুক্তরাষ্ট্র শ্রমিক লীগের উপদেষ্টা আব্দুর রহিম বাদশা জানিয়েছেন, খোকনের মরদেহ দেশে পাঠানোর সব আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়েছে এবং এতে বাংলাদেশ সোসাইটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। স্থানীয় সময় শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বাদ জুমা জ্যাকসন হাইটসের ডাইভার্সিটি প্লাজায় তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর রাতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি ফ্লাইটে মরদেহ ঢাকার উদ্দেশে পাঠানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে।

খোকনের মৃত্যুতে নিউইয়র্কের প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তাঁর দীর্ঘ প্রবাসজীবন, গ্রিনকার্ড না পাওয়ার অনিশ্চয়তা এবং ব্যক্তিগত ত্যাগের বিষয়গুলো এখন আলোচনায় উঠে এসেছে, যদিও তাঁর মৃত্যুর সঙ্গে অভিবাসনসংক্রান্ত উদ্বেগের সরাসরি কোনো যোগসূত্র নিশ্চিত নয়। ৩০ বছর আগে স্বপ্ন নিয়ে আসা মানুষটি এখন অন্যের সহযোগিতায় শেষযাত্রায় ফিরছেন স্বজনদের কাছে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin