মানব পাচার নির্মূলে বাংলাদেশের অগ্রগতি সত্ত্বেও দ্বিতীয় ধাপেই অবস্থান

Published: October 9, 2026, 10:02 am

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ওয়েবসাইটে বৃহস্পতিবার প্রকাশিত ২০২৬ সালের ‘ট্রাফিকিং ইন পারসনস রিপোর্ট’ অনুযায়ী, মানব পাচার প্রতিরোধে বাংলাদেশ সরকারের সামগ্রিক উদ্যোগ গত বছরের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে এই অগ্রগতির পরেও বৈশ্বিক সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান আগের মতো দ্বিতীয় ধাপেই (টিয়ার-২) রয়ে গেছে। বাংলাদেশের প্রতিবেশী দেশ ভারত, পাকিস্তান, ভুটান ও শ্রীলঙ্কাও একই ধাপে অবস্থান করছে।

প্রতিবেদনের মানদণ্ড অনুযায়ী, যেসব দেশ মানব পাচার প্রতিরোধে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট আইনে নির্ধারিত ন্যূনতম মানদণ্ড পূরণ করে, তাদের প্রথম ধাপে (টিয়ার-১) রাখা হয়। বাংলাদেশসহ যেসব দেশ ন্যূনতম মানদণ্ড পুরোপুরি অর্জন করতে পারেনি কিন্তু এ ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, তারা দ্বিতীয় ধাপে (টিয়ার-২) থাকে। এছাড়া তৃতীয় ধাপে (টিয়ার-৩) রাখা হয় সেই সব দেশগুলোকে, যারা ন্যূনতম মানদণ্ড অর্জনে ব্যর্থ হওয়ার পাশাপাশি এ বিষয়ে উল্লেখযোগ্য কোনো চেষ্টাও করছে না।

বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন ইতিবাচক উদ্যোগের কথা প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ‘মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন অধ্যাদেশ, ২০২৬’ পাস করার মাধ্যমে আইনগত কাঠামো শক্তিশালী করা। এছাড়া মানব পাচারের ঘটনায় তদন্ত ও মামলা পরিচালনার হার বৃদ্ধি, অপরাধ শনাক্তকরণ ও ভুক্তভোগী চিহ্নিতকরণ নির্দেশিকা হালনাগাদ এবং ভুক্তভোগীদের দ্রুত সহায়তা প্রদানের জন্য ডিজিটাল ব্যবস্থা পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হয়েছে। অভিবাসী শ্রমিকদের সুরক্ষায় সরকার ঝুঁকি কমানোর বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

তবে কিছু গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে সরকার এখনো ন্যূনতম মানদণ্ড পূরণে ব্যর্থ হয়েছে বলে প্রতিবেদনে সমালোচনা করা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, আগের চেয়ে কমসংখ্যক মানব পাচারকারীকে দোষী সাব্যস্ত করা এবং দেশের অভ্যন্তরে মানব পাচার দমনে পর্যাপ্ত পদক্ষেপের অভাব। প্রতিবেদনে বলা হয়, এ ধরনের অপরাধের বিস্তার এখনো ব্যাপক।

ভুক্তভোগীদের সুরক্ষা ও পুনর্বাসনের ক্ষেত্রেও ঘাটতি রয়ে গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, যা বিশেষ করে রোহিঙ্গা শরণার্থী এবং দেশে ফিরে আসা অভিবাসী শ্রমিকদের ক্ষেত্রে বেশি দৃশ্যমান। এছাড়া, সরকার অভিবাসী শ্রমিকদের নিজেদের পকেট থেকে নিয়োগ ফি দেওয়ার প্রথা বন্ধ করতে না পারায় অনেক শ্রমিক ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়ছেন এবং এটি তাদের মানব পাচারের শিকার হওয়ার ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে বলে প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo