কাশ্মীরেও সিইসির পদত্যাগের দাবিতে সরব বিরোধী জোট

Published: October 10, 2026, 12:58 pm

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ফুঁসে উঠেছে জম্মু-কাশ্মীর। শনিবার বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র আহ্বানে ভোটার তালিকায় জালিয়াতির অভিযোগ তুলে অঞ্চলটির বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। এই আন্দোলনে জম্মু-কাশ্মীরের আঞ্চলিক দল ন্যাশনাল কনফারেন্স (এনসি) এবং পিপলস ডেমোক্রেটিক পার্টি (পিডিপি) সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছে।

শ্রীনগরে কংগ্রেসের কার্যালয়ে এনসি ও পিডিপির কয়েক ডজন নেতা-কর্মী সমবেত হন, যাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নারীও ছিলেন। দলীয় পতাকা হাতে বিক্ষোভকারীরা মিছিল নিয়ে লাল চকের দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করলে নিরাপত্তা বাহিনী তাদের বাধা দেয়। বিক্ষোভকারীদের হাতে থাকা প্ল্যাকার্ডে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের ছবি দেখা যায়, যেখানে তারা ‘ভোট চুরি’র অভিযোগ তুলে সিইসির পদত্যাগ দাবি করেন। এছাড়া কাশ্মীরের মধ্যাঞ্চলের গান্দেরবাল ও দক্ষিণাঞ্চলের অনন্তনাগেও বিরোধী জোটের শরিকরা যৌথভাবে প্রতিবাদ জানিয়েছে।

গান্দেরবালে বিক্ষোভে অংশ নেওয়া গিয়াস আহমদ জানান, এনসি, পিডিপি ও সিপিআই(এম)-এর কর্মীরা শান্তিপূর্ণভাবে এই প্রতিবাদে শামিল হয়েছেন। তিনি জ্ঞানেশ কুমারের কর্মকাণ্ডের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং তার পদত্যাগের দাবি জানান। একই সঙ্গে তিনি ভোট চুরির সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানিয়ে জাতীয় পর্যায়ের বিরোধী নেতাদের আন্দোলনের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন।

এদিকে দিল্লিতে বিক্ষোভ দমনে নেওয়া কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা, ইন্টারনেট বিচ্ছিন্নকরণ এবং চলাচলে বিধিনিষেধের কড়া সমালোচনা করেছেন জম্মু-কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ ও সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি। ওমর আবদুল্লাহ এক্সে দেওয়া পোস্টে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘কাশ্মীর মডেল’ দিল্লিতে রপ্তানি করা হয়েছে। তিনি ২০১৯ সালে কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিলের সময়ের পরিস্থিতির সঙ্গে দিল্লির বর্তমান অবস্থার তুলনা করেন।

পিডিপি নেত্রী মেহবুবা মুফতিও দিল্লির পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলের সময়ের ভীতিকর স্মৃতি আজ দিল্লিতে ফিরে এসেছে। তিনি অভিযোগ করেন, মানুষকে অবরুদ্ধ করে রেখে পরে সরকার মিথ্যা দাবি করবে যে কেউ প্রতিবাদ করেনি। মেহবুবা আরও বলেন, বিক্ষোভকারীদের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করে এবং যন্তর মন্তরের রাস্তা বন্ধ করে দিয়ে জোরপূর্বক নীরবতাকে সম্মতি হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে ভোটার তালিকায় জালিয়াতির অভিযোগের বিষয়ে নির্বাচন কমিশন বা ক্ষমতাসীন বিজেপির পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh