পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধ চুক্তি বা এনপিটি (NPT) থেকে বেরিয়ে আসার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ইরানের পার্লামেন্টের প্রেসিডিয়াম বোর্ডে একটি বিল জমা দিয়েছেন দেশটির কয়েকজন আইনপ্রণেতা। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভির এক প্রতিবেদনে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
ইরানি পার্লামেন্টের সদস্য হোসেইন-আলি হাজি দেলিগানি জানিয়েছেন, বিলটি সংসদে উপস্থাপনের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত করা হয়েছে। তবে এই বিলের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বিতর্ক শুরু করার জন্য পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের অনুমোদনের প্রয়োজন রয়েছে।
হাজি দেলিগানি এই পদক্ষেপের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেন, দেশের বর্তমান পরিস্থিতি এবং ‘শত্রুর’ দুই দফা আগ্রাসনের প্রেক্ষাপটে এনপিটির সদস্য হিসেবে থাকার চেয়ে বেরিয়ে আসাই ইরানের জন্য লাভজনক হতে পারে। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা বা আইএইএ-এর পরিচালনা পর্ষদ ইরানের বিরুদ্ধে পরমাণু অস্ত্র বিস্তার রোধ সংক্রান্ত বাধ্যবাধকতা লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে বিষয়টি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই সিদ্ধান্তের বিষয়টিও তিনি উল্লেখ করেন। তিনি আরও বলেন, নিজেদের জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষায় ইরানকে এনপিটি থেকে সরে আসতে হতে পারে।
এর আগে ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা মোহসেন রেজাই আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, দেশটির পরমাণু নীতিতে আপাতত কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। তবে এনপিটি থেকে সরে আসার বিষয়টি যে বিবেচনা করা হচ্ছে, তা তিনি স্বীকার করেছেন। রেজাইয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, এই সিদ্ধান্তের বিষয়টি মূলত যুক্তরাষ্ট্রের আচরণের ওপর নির্ভর করবে।
উল্লেখ্য যে, এনপিটির স্বাক্ষরকারী দেশ হিসেবে ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে পারে না। তেহরান বরাবরই দাবি করে আসছে যে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরিচালিত এবং তারা কোনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করছে না। তবে পার্লামেন্টে বিল উত্থাপিত হলেও এটি এখনো আইনে পরিণত হয়নি এবং বিতর্ক ও পরবর্তী পদক্ষেপের জন্য স্পিকারের চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।





