মুর্শিদাবাদে ভারতীয় বাবা ও ৩ ছেলেকে বাংলাদেশে পুশব্যাকের অভিযোগ

Published: September 26, 2026, 5:51 am

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদে বৈধ নথিপত্র থাকা সত্ত্বেও এক ষাটোর্ধ্ব ব্যক্তি ও তাঁর তিন ছেলেকে কোনো ধরনের আইনি প্রক্রিয়া ছাড়াই আটক করে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সীমান্ত এলাকা নিয়ে কাজ করা পশ্চিমবঙ্গের মানবাধিকার সংগঠন ‘মানবাধিকার সুরক্ষা মঞ্চ’ (মাসুম) সম্প্রতি এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি প্রকাশ্যে এনেছে। সংগঠনটির দাবি, গত ১৩ আগস্ট মুর্শিদাবাদের সুতি থানার উমরাপুর পঞ্চায়েতের বালিয়াঘাটি গ্রাম থেকে ওই চারজনকে আটক করে দ্রুত ‘বাংলাদেশি’ তকমা দিয়ে সীমান্তের ওপারে ঠেলে দেওয়া হয়।

ভুক্তভোগী ব্যক্তিরা হলেন ষাটোর্ধ্ব ডাবলু শেখ এবং তাঁর তিন ছেলে—কায়েম শেখ, রাজাউল শেখ ও ১৬ বছর বয়সী কিশোর আসমাউল শেখ। ডাবলু শেখের পরিবারের দাবি, তাঁরা ভারতের বৈধ নাগরিক। ডাবলু শেখ ২০২৬ সালের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত এবং চলতি বছরও তিনি ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। এমনকি তাঁর বাবা শেখ সামজানির নাম ১৯৬৬ সালের ভারতের নির্বাচনী রেকর্ডে রয়েছে। এছাড়া পরিবারটির কাছে আধার ও রেশন কার্ডের মতো সব ধরনের বৈধ ভারতীয় পরিচয়পত্র থাকা সত্ত্বেও পুলিশ ও সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কোনো তদন্ত ছাড়াই তাঁদের তাড়িয়ে দেয়।

মানবাধিকার সংগঠন ‘মাসুম’ ও ‘প্যাকটি’ এই ঘটনাকে সম্পূর্ণ বেআইনি ও অসাংবিধানিক বলে অভিহিত করেছে। তারা পশ্চিমবঙ্গের স্বরাষ্ট্র দপ্তরে এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছে। সংগঠনগুলোর অভিযোগ, রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকে বিশেষ করে সীমান্তবর্তী এলাকায় বাঙালি মুসলিম ও দরিদ্রদের লক্ষ্য করে প্রশাসনিক ও পুলিশি নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং উপযুক্ত তথ্যপ্রমাণ ছাড়াই তাঁদের ‘বিদেশি’ তকমা দিয়ে হেনস্তা করা হচ্ছে। আইনি অধিকার রক্ষা ও নিজেকে নির্দোষ প্রমাণের সুযোগ না দিয়েই এভাবে সীমান্ত পার করে দেওয়ায় ওই পরিবারগুলোর স্বজনেরা এখন চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন।

এই অমানবিক পরিস্থিতির প্রতিকারে মানবাধিকার কর্মীরা কয়েকটি নির্দিষ্ট দাবি তুলেছেন। তাঁরা অবিলম্বে ডাবলু শেখ ও তাঁর তিন ছেলেকে নিরাপদে ভারতে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি, এই বেআইনি আটক ও পুশব্যাকের পেছনে জড়িতদের চিহ্নিত করতে একটি নিরপেক্ষ ও সময়সীমাভিত্তিক তদন্তের দাবি করা হয়েছে। পুলিশের অনুসন্ধান প্রতিবেদন, এফআরআরওর নির্দেশপত্র, বিএসএফের কাছে হস্তান্তরের দলিল এবং বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের সব রেকর্ড জনসমক্ষে প্রকাশের আহ্বান জানানো হয়েছে। এ ছাড়া সুতি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, জঙ্গিপুর জেলার পুলিশ সুপার এবং সংশ্লিষ্ট ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের ভূমিকা তদন্ত করে তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ফৌজদারি ও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo