যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে বিষ খাইয়ে হত্যার দায়ে স্বামীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

Published: October 8, 2026, 9:57 am

যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতনের পর অতিরিক্ত গুল খাইয়ে হত্যার দায়ে মো. জিল্লুর মোল্যাকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল। বৃহস্পতিবার আদালতের বিচারক জেলা ও দায়রা জজ শামীমা পারভীন এই রায় ঘোষণা করেন। সাজা হিসেবে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে, যা অনাদায়ে আরও এক বছর কারাভোগ করতে হবে। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন না এবং তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

আদালত সূত্রে জানা যায়, ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার চরডাঙ্গা গ্রামের আছাদ মোল্যার ছেলে জিল্লুর মোল্যার সঙ্গে ভুক্তভোগী নারীর পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে জিল্লুর তার স্ত্রীকে নিয়মিত নির্যাতন করতেন, যা নিয়ে তাদের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হতো। ২০১৯ সালের ১৯ মার্চ বিকেল ৩টার দিকে স্থানীয় এক ব্যক্তির মাধ্যমে স্বজনেরা জানতে পারেন, পারিবারিক কলহের জেরে ওই নারী দুপুর ১টার দিকে গুল খেয়ে আত্মহত্যা করেছেন। পরবর্তীতে স্বজনেরা জিল্লুরের বাড়িতে গিয়ে উঠানে চৌকির ওপর মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন।

এই ঘটনায় ভুক্তভোগীর দুলাভাই ইমরান মোল্লা বাদী হয়ে আলফাডাঙ্গা থানায় একটি মামলা করেন। মামলার তদন্তে বেরিয়ে আসে যে এটি আত্মহত্যা নয়, বরং পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে নিকোটিনজাত বিষক্রিয়ায় মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয় এবং ভুক্তভোগীর শ্বাসনালি ও পরিপাকতন্ত্রে গুলের অস্তিত্ব পাওয়া যায়। চিকিৎসকের মতামতে বলা হয়, বিষক্রিয়ার ফলে শ্বাসপ্রশ্বাসজনিত জটিলতায় ওই নারীর মৃত্যু হয়েছে এবং মৃত্যুর ধরনটি ছিল হত্যাজনিত।

তদন্ত শেষে আলফাডাঙ্গা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নাজিমুদ্দিন জিল্লুর মোল্যাকে একমাত্র আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। রাষ্ট্রপক্ষ দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় সাক্ষ্য-প্রমাণ ও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন উপস্থাপন করে। মামলার রায়ের বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া রতন বলেন, যৌতুকের জন্য নির্যাতন ও হত্যার ঘটনায় আদালতের এই কঠোর অবস্থান সমাজে একটি ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দেবে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Amader Shomoy