একের পর এক দখল ও ভাঙচুরে বিব্রত সরকার

Published: September 30, 2026, 5:02 am

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে জনমনে বিরাজমান অস্বস্তির মধ্যেই একের পর এক হামলা, ভাঙচুর, দখল এবং ভবন গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা সরকারের উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে তুলেছে। এসব ঘটনার বেশ কয়েকটিতে ক্ষমতাসীন বিএনপির স্থানীয় নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠায় বিষয়টি রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক উভয় ক্ষেত্রেই আলোচনার জন্ম দিয়েছে। নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব সরকারের—এই বিষয়টি উল্লেখ করে সরকারি পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশ ও বিব্রত হওয়ার কথা জানানো হয়েছে।

মিরপুরের রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা ও ভাঙচুরের বিষয়ে গত মঙ্গলবার সচিবালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, কোনো নাগরিকের অধিকার ক্ষুণ্ন হলে বা তিনি হামলার শিকার হলে সরকার প্রতিটি ঘটনায় দুঃখিত ও বিব্রত। তিনি বলেন, নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব সরকারের ছিল, আর সেই দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার কারণেই সরকার বিব্রত। তদন্তে আরও কারও জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাদের আইনের আওতায় আনা হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

সরকার ও বিএনপির দায়িত্বশীল মহলে সাম্প্রতিক এসব ঘটনা নিয়ে গভীর উদ্বেগ রয়েছে। জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে অসন্তোষ এবং বিরোধী দলগুলোর কর্মসূচির মধ্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির এই অবনতি সরকারের জন্য বাড়তি চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে নিজ দলের স্থানীয় নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠায় তাদের নিয়ন্ত্রণ করার বিষয়টি এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে সামনে এসেছে।

গত বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের স্থাপনা গুঁড়িয়ে দিয়ে লুটপাটের ঘটনা ঘটে, যার পেছনে স্থানীয় বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত কয়েকজনের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। এর পরপরই শনিবার মধ্যরাতে ইসিবি এলাকায় নিউগিনি প্রোপার্টিজ আবাসন প্রকল্পে হামলা ও সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ভাঙচুর করা হয়। এছাড়া একই দিনে আদাবরের শ্যামলী হাউজিংয়ে ভবন দখলের চেষ্টা এবং মোহাম্মদপুরের চাঁদ উদ্যানে প্লটে ঢুকে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। এসব ঘটনায় সরকারি দলের স্থানীয় নেতা-কর্মীদের সংশ্লিষ্টতা সরকারের ভাবমূর্তিকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।

গত সোমবার রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্র পরিদর্শনে গিয়ে জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান হামলাকারীদের শনাক্ত করতে না পারার বিষয়টিকে রহস্যজনক বলে মন্তব্য করেন এবং দলীয় পরিচয় নির্বিশেষে অপরাধীদের শাস্তির দাবি জানান। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদও রোববার সচিবালয়ে ব্রিফিংয়ে বলেছেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর যেকোনো অপচেষ্টা কঠোর হাতে দমন করা হবে। অপরাধীর কোনো রাজনৈতিক পরিচয় নেই উল্লেখ করে তিনি কঠোর পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দেন। এর আগে বিএনপির অভ্যন্তরীণ সভায় তিনি নেতা-কর্মীদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছিলেন, যদিও সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো সেই সতর্কবার্তার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

জাতীয় অধ্যাপক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক মাহবুব উল্লাহ সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছরের প্রতিকূলতা পেরিয়ে বর্তমানে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকা নেতা-কর্মীদের মধ্যে আইন না মানার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, যা দলের জন্য বড় সমস্যা। অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে নেতা-কর্মীদের নিবৃত্ত করার দায়িত্ব এখন দলের ওপরই বর্তায়।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo