তথ্য অধিকার আইন ব্যবহারে বড় বাধা ভয় ও সক্ষমতার অভাব

Published: September 30, 2026, 4:51 am

তথ্য অধিকার আইন সম্পর্কে নাগরিকদের সচেতনতা কিছুটা বাড়লেও আইনটি ব্যবহারের ক্ষেত্রে এখনও বড় ধরনের ঘাটতি বিদ্যমান। মঙ্গলবার রাজধানীর ডেইলি স্টার ভবনে তথ্য অধিকার ফোরাম আয়োজিত এক সম্মেলনে উপস্থাপিত 'বাংলাদেশ তথ্য অধিকার জরিপ ২০২৬' প্রতিবেদনে জানানো হয় যে, ৭২.৪০ শতাংশ নাগরিক মনে করেন প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়ার সুযোগ নেই। ২০১৯ সালে এই হার ছিল ৬৮.৩০ শতাংশ।

আন্তর্জাতিক তথ্য জানার অধিকার দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত এই সম্মেলনে সারাদেশ থেকে সাংবাদিক, তথ্য অধিকারকর্মী, সরকারি কর্মকর্তা এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। জরিপ প্রতিবেদন উপস্থাপনকারী ড. অনন্য রায়হান জানান, ২০১৯ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত সময়ের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, যদিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কল্যাণে আইনটি সম্পর্কে সচেতনতা ৭.৭ শতাংশ থেকে বেড়ে ১০.৫০ শতাংশে উন্নীত হয়েছে, তবুও এর প্রয়োগে বড় ধরনের সমস্যা রয়েছে।

জরিপ অনুযায়ী, নাগরিকদের তথ্যের চাহিদার ক্ষেত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে কর্মসংস্থান, উন্নয়ন প্রকল্প, সামাজিক সেবা, শিক্ষা ও সরকারি অর্থ বরাদ্দ। তবে তথ্য চাওয়ার ক্ষেত্রে প্রতিশোধ বা হয়রানির ভয়, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতার অভাব এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের লিখিতভাবে তথ্য দিতে অনীহা বড় বাধা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এছাড়া প্রান্তিক জনগোষ্ঠী তথ্য পাওয়ার ক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার হচ্ছে।

জরিপে আরও দেখা গেছে, তরুণদের মধ্যে এ হার প্রায় ১৮.৫০% এবং গ্র্যাজুয়েটদের মধ্যে প্রায় ৩৮%। সচেতন নাগরিকদের মধ্যেও মাত্র ৮% এর কিছু বেশি তথ্য পাওয়ার প্রক্রিয়া জানেন এবং ৯.৩% নির্দিষ্ট সময়সীমা সম্পর্কে অবগত। আপিল কর্তৃপক্ষ সম্পর্কেও রয়েছে জ্ঞানের ঘাটতি; ৪৬% মনে করেন ইউপি চেয়ারম্যান আপিলের বিষয়টি নিষ্পত্তি করবেন, তবে মাত্র ১৯.৯০% সঠিকভাবে তথ্য কমিশনকে শনাক্ত করতে পেরেছেন। এমআরডিআইয়ের নির্বাহী পরিচালক হাসিবুর রহমান জানান, তথ্য কমিশন কার্যকর না থাকায় বর্তমানে সাড়ে ৮০০-এর বেশি শুনানি আটকে আছে। তিনি নতুন কমিশন গঠনের পর এসব শুনানি দ্রুত নিষ্পত্তির ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং তথ্য কমিশনারদের পদমর্যাদা ক্যাবিনেট সচিবের ওপরে রাখার দাবি জানান।

টিআইবি-র নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, আগামীতে গঠিতব্য তথ্য কমিশনকে অবশ্যই দলীয় বিবেচনার ঊর্ধ্বে থেকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে হবে। তিনি আরও বলেন, অপতথ্য নিয়ন্ত্রণের নামে তথ্য অধিকার সংকুচিত করা উচিত নয়। ব্লাস্টের ব্যারিস্টার সারা হোসেন উল্লেখ করেন যে, ৬৪ শতাংশ দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কোনো তথ্যের আবেদনই পাননি এবং ৩৮ শতাংশ ক্ষেত্রে কমিশনের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হয়নি।

মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম বলেন, ২০০৯ সালে তথ্য অধিকার আইন প্রণয়নের পর জনগণের মধ্যে তথ্য চাওয়ার আগ্রহ যতটা বাড়ার কথা ছিল, তা হয়নি। ২০১৯ সালের তুলনায় কিছুটা উন্নতি হলেও তা যথেষ্ট নয়। তিনি স্থানীয় পর্যায়ে তথ্য চাওয়ার ক্ষেত্রে ভীতি ও বিরূপ প্রতিক্রিয়ার কথা তুলে ধরেন। তথ্য কমিশনের সচিব মোহাম্মদ শাহ আলম তথ্যের আধিক্যের যুগে যাচাই করা ও নির্ভরযোগ্য তথ্যের চাহিদার ওপর জোর দেন। এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর পরিচালক ড. কে. এম. মামুনুজ্জামান সরকারি দপ্তরগুলোর স্বপ্রণোদিতভাবে তথ্য প্রকাশের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। দিনব্যাপী এই সম্মেলনে তথ্য অধিকার আইন সংশোধন, ই-গভর্ন্যান্স ও সুশাসন নিশ্চিতের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin