প্রকাশ : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২: ৪৪। দেশের আর্থিক খাতের নাজুক পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য অলিগার্কদের সঙ্গে রাষ্ট্রের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা অপরিহার্য বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ। তিনি বলেন, বিগত দিনে বাংলাদেশ ব্যাংক, আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রীবর্গ এবং লুটেরা ব্যবসায়ীদের মধ্যে এক ধরনের যোগসাজশ বা নেক্সাস গড়ে উঠেছিল। এই আঁতাত না থাকলে ব্যাংকগুলো থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা লুণ্ঠন ও বিদেশে পাচার করা সম্ভব হতো না।
শনিবার মিরপুরে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট (বিআইবিএম) মিলনায়তনে আয়োজিত ২৩তম নুরুল মতিন স্মারক বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। ‘ব্যাংকিংয়ে নৈতিকতা’ শীর্ষক এই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান এবং স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিআইবিএম মহাপরিচালক এজাজুল ইসলাম।
মাহবুব উল্লাহ বলেন, এই লুণ্ঠনের ফলে ইসলামী ব্যাংকের মতো অনেক ভালো প্রতিষ্ঠান আজ দুর্দশায় পড়েছে। ব্যাংকগুলো আমানতকারীদের টাকা ফেরত দিতে পারছে না, ফলে আর্থিক খাত ভয়াবহ রুগ্ণ হয়ে পড়েছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, লুণ্ঠিত টাকাগুলো বর্তমানে কোথায় আছে। তার মতে, চোরতন্ত্রের এই ক্ষমতাকাঠামো ভেঙে চুরমার করতে না পারলে ব্যাংকিং ব্যবস্থায় নিয়মকানুন ফেরানোর আশা করা বৃথা।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, বর্তমান অর্থনৈতিক কাঠামোয় প্রতিযোগিতার চেয়ে স্বজনতোষণ এবং দুর্নীতি বেশি প্রাধান্য পাচ্ছে। অলিগার্করা অর্থনীতির ভ্যালুচেইনের সঙ্গে যুক্ত থাকায় তাদের নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন, কারণ তারা চাইলে সংকট তৈরি করতে পারে। এটিই ব্যাংকিং নৈতিকতা ও বাস্তবতার বড় প্যারাডক্স।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান বলেন, মাহবুব উল্লাহ যে দার্শনিক সংশয় প্রকাশ করেছেন তা অমূলক নয়। তিনি জানান, রাষ্ট্র ও গোষ্ঠীস্বার্থের এই বন্ধন ভাঙার জন্য একক পরিবার বা গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণ সীমিত করা, ব্যাংক বোর্ড থেকে রাজনৈতিক ব্যক্তিদের অপসারণ এবং অর্জিত সম্পদের মালিকানা আইনিভাবে প্রমাণের কাজ শুরু হয়েছে। ব্যাংক কোনো ব্যক্তির নয়, বরং তা আমানতকারীদের—এই দর্শন বাস্তবায়নে তারা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।





