শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় একের পর এক ককটেল বিস্ফোরণ ও বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। মালিবাগ, মহাখালী, আগারগাঁও ও যাত্রাবাড়ীর পর মগবাজার, বাবুবাজার, বঙ্গবাজার, সায়েন্সল্যাব, গুলিস্তান এবং রামপুরায় বিটিভি ভবনের প্রধান ফটকের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। একই সময়ে কাফরুল, collegegate ও চিটাগং হাইওয়ে রোডে তিনটি বাসে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। এসব ঘটনায় যাত্রাবাড়ীতে এক রিকশাচালক আহত হয়েছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে বাবুবাজার ব্রিজের নিচে একটি মাজারের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে। বাবুবাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) মলয় বসির জানান, বিস্ফোরণের খবর পেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এর কিছুক্ষণ পর রাত ৯টার দিকে মগবাজার চৌরাস্তা জামে মসজিদের পাশে আরেকটি বিস্ফোরণ ঘটে। এছাড়া রাত ১১টার দিকে বিটিভি ভবনের প্রধান ফটকের বিপরীত পাশের সড়কে ককটেল নিক্ষেপ করা হয়। এ বিষয়ে হাতিরঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদুজ্জামান জানান, বিকট শব্দ শোনার খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে গেলেও ককটেলের কোনো আলামত পায়নি।
এর আগে জুমার নামাজের পর মালিবাগ এলাকায় ফ্লাইওভার থেকে ককটেল নিক্ষেপ করা হয় বলে জানায় পুলিশ। সন্ধ্যার দিকে মহাখালী এলাকায় পরপর দুটি এবং প্রায় একই সময়ে আগারগাঁওয়ের বাংলাদেশ বেতার ভবনের পাশে সড়কে আরেকটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়। পরে যাত্রাবাড়ী থানার সামনে পরপর পাঁচটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে ইবাদুর রহমান নামের এক রিকশাচালক আহত হন।
এদিকে ককটেল বিস্ফোরণের পাশাপাশি রাজধানীর তিনটি স্থানে বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। রাত ১০টা ১৪ মিনিটে কাফরুল থানার সামনে ‘মিরপুর সুপার লিংক’ পরিবহনের একটি বাসে আগুন লাগার খবর পায় ফায়ার সার্ভিস। ফায়ারサービスの ডিউটি অফিসার শাহজান ইসলাম জানান, খবর পেয়ে তাদের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। মিরপুর বিভাগের সহকারী কমিশনার আবুল বাসার মোল্ল্যাও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এছাড়া প্রায় একই সময়ে কলেজগেট ও চিটাগং রোড হাইওয়েতে আরও দুটি বাসে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। তবে তাৎক্ষণিকভাবে এসব অগ্নিকাণ্ড ও বিস্ফোরণে বড় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।





